ফরিদপুরে ৬ বছরের শিশু আফিয়াকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ফাঁসির দাবি পরিবার ও এলাকাবাসীর
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৩১ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের তাইজদ্দিন মুন্সীর ডাঙ্গী গ্রামে ৬ বছরের শিশু কন্যা আফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা কামাল খা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে। স্থানীয় একটি খেলার মাঠ থেকে পাখি দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত কামাল খা শিশু আফিয়াকে পাশের একটি টিনের তৈরি বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক জামা-কাপড় খুলে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মোঃ আমজাদ মোল্লা জানান, আমি প্রতিদিনের মতো সকালে আমার ইজিবাইক নিয়ে ভাড়ায় বের হই। বিকাল চারটার দিকে আমার স্ত্রী ফোন করে জানায় আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি দ্রুত বাড়ি এসে মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যাই এবং অভিযোগ দায়ের করি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত কামাল খা’কে খুঁজে বের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। আমার ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে, আমি এই ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।
ভুক্তভোগী শিশুর মা তাসলিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে ময়লা কাপড় পরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে সব বলে। তখনই আমি স্থানীয়দের ও ওর বাবাকে ফোন দিই। পরে থানায় অভিযোগ করা হয় এবং অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমার ছোট্ট মেয়েকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করেছে, আমি ওর ফাঁসি চাই।
এদিকে শিশুটির ফুফু তাসলিমা বেগম বলেন, ভাস্তির মুখ থেকেই সব শুনেছি। এই অপরাধের এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য কাজ করার আগে শতবার চিন্তা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত কামাল খা’কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজের মুখেই অপরাধ স্বীকার করেন। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত কামাল খা’র বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির প্রধান গেটে তালা ঝুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করা হলেও তাকে কিংবা বাড়ির অন্য কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাড়িটি সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় থাকায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার এসআই আসাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে দুঃখজনকভাবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।


























