ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সম্প্রতি অটোচালক টিপু হত্যা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সম্প্রতি অটো চালক উপ হত্যা মামলা সংক্রান্তে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন সহ
২ জন আসামী গ্রেফতার সংক্রান্তে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আজমীর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান
গত ১৮ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ৮.০০ টার সময় ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরের জনৈক হাকিম শেখ এর কলাবাগানের ভিতর একটি অজ্ঞাতনামা লাশ পরে আছে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে লাশ দেখে তদন্ত শুরু করে,লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত করে নিহতের পরিবারকে জানানো হলে তারা ফরিদপুর এসে লাশ শনাক্ত করে এবং ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় সূত্রোক্ত হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলা রুজু হওয়ার পর ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর নেতৃত্বে একটি টিম মামলাটি তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের ল্যাক-সেল, মৃত ব্যক্তির মোবাইল নাম্বারের কল লিস্ট ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেআসামী ১। রাজিব খান (৪১) কে ২০ ডিসেম্বর প্রেফতার করে রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
২১ ডিসেম্বর তারিখ রাজীব খানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসা বাদ করলে তার দেওয়া তথ্য মতে আসামী মান্নান হাওলাদার (৩২) কে কোতয়ালী থানার বায়তুল আমান এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামী মান্নান হাওলাদার এর দেখানো মতে তাহার নিজ ভাড়া বাড়ী হইতে উক্ত ব্যক্তির লুন্ঠিত রিক্সা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী রাজিব খান ও উক্ত মৃত ব্যক্তি টিপু ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। পাশাপাশি টিপু রিক্সা চালাত।
গত ১৭ ডিসেম্বর তারিখ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে একসাথে নেশা করার লোভ দিয়ে টিপু কাজ শেষে সন্ধ্যায় রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে আসামী রাজিবের সাথে দেখা করে। আসামী রাজিবের কাছে থাকা পুরাতন চাকু ও গাড়ীর লোহার পাতি ছিল। এরপর তারা টিপুর রিক্সায় শিবরামপুর এলাকার চাদপুর গ্রামে ফাকা জায়গায় পুকুর পাড়ের কলাবাগানে যায়। ওখানে তারা গাজা ও সিগারেট খায়। আসামী রাজিব লোহার পাতি দিয়ে টিপুর মাথায় জোরে লোহার পাতি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় টিপু পড়ে গেলে মাথা ও মুখে আরো ৪/৫ টা বারি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর আসামী রাজিব চাকু আর পাতি পাশে থাকা পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। এরপর আসামী রাজিব উক্ত টিপুর লাশ কলাবাগানে ফেলে রেখে ওর রিক্সা নিয়ে ফরিদপুর শহরে র্যাফেলস ইনের মোড়ে আসামী মান্নান হাওলাদার এর নিকট লুষ্ঠিত রিক্সাটি বিক্রির জন্য দিয়ে দেয়। পরের দিন আসামী মান্নান রিক্সা বিক্রি বাবদ আসামী রাজিবকে ১৪,৫০০/- টাকা দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যহত আছে। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, এসআই হীরামন বিশ্বাস ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।













