ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উৎসবে হামলা বহিরাগতদের ইটপাটকেলে পণ্ড জেমসের কনসার্ট, আহত বেশ কয়েকজন
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

নাজমুল হুদা বাশার-ফরিদপুর
ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য বর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতদের ছোড়া ইটপাটকেল এ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের কনসার্ট পণ্ড হয়ে যায়। এ ঘটনায় আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কিছু সংখ্যক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
রাত পৌনে ১০টার দিকে এই তুমুল সংঘর্ষ
ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে, ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে জেমসের আসার আগেই এই ঘটনা ঘটে। পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া কালিন সময়ে হঠাৎ করে বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে মঞ্চ ও দর্শক সারিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে কনসার্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি কেবলমাত্র নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জেমসের কনসার্টের খবরে কয়েক হাজার অনিবন্ধিত দর্শক স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে জড়ো হন। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে তাঁরা পাশের মুজিব সড়কে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্কুলের বাইরে দুটি বড় প্রজেক্টরের মাধ্যমে কনসার্ট দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরও রাত সাড়ে ৯টার দিকে বহিরাগতদের একটি অংশ স্কুলের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে উত্তেজিত হয়ে তারা স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে একের পর এক ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।
আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও আয়োজকরাও
ইটপাটকেলের আঘাতে স্কুল প্রাঙ্গণের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া আয়োজক কমিটির আহ্বায়কসহ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকও আহত হন।
এ সময় বেশ কিছু বহিরাগত দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বাধা দিলে অনুপ্রবেশ কারিরা ছাত্রদের কে মারধর করেন। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কাজনক হওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত ১০টার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান শামীম ও সদস্য সচিব মোঃ ওয়াহিদ মিয়া কুটি মঞ্চে ঘোষণা করে বলেন- জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের কনসাট বাতিল করা হচ্ছে। ঘোষণার পরপরই অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা হয়ে যায়
আয়োজক ও পুলিশের বক্তব্য
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের প্রচার ও মিডিয়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাজীবুল হাসান খান বলেন,
“জেমসের কনসার্ট সফল করতে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ বহিরাগতদের হামলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমাদের স্কুলের অন্তত ১৫–২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নিরাপত্তা উপকমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বেনজীর আহমেদ তাবরীজ বলেন,
“বাইরে থেকে ছোড়া ইটপাটকেলে পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়কসহ ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”এ ব্যাপারে
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন,
“জেমস মঞ্চে আসার খবরে স্কুলের সামনে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভেতরে জায়গা দেওয়া সম্ভব ছিল না। বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।”
ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাতে গোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম ফরিদপুর জিলা স্কুল। ১৮৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১৮৫ বছর ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক আন্দোলন ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এমন একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গভীরভাবে দুঃখজনক বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

























