ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫ ‎ ‎শিবচরে শিরুয়াইল তরুণ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম খলিফার পরিচিতি সভা ‎ ‎ ‎ কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায়, ১৪৯ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

ফরিদপুর আরোগ্য সদন হাসপাতালে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা–মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তে ৩৫ বছর ধরে অটল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম – ফরিদপুর

যেখানে অর্থ ছাড়া চিকিৎসাসেবা কল্পনাই করা যায় না, সেখানে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়ে টানা ৩৫ বছর ধরে বিনামূল্যে রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা বাবদ কোনো বিল গ্রহণ করে না।এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কে অবস্থিত আরোগ্য সদন প্রাইভেট হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও এই নীতির ব্যতিক্রম ঘটেনি। অর্থনৈতিক চাপ, সময়ের পরিবর্তন কিংবা ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও মানবিক এই অঙ্গীকার অটুট রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পথচলা
আরোগ্য সদন হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি। শুরুতে পাঁচজন অংশীদারের উদ্যোগে শহরের একটি ভাড়া ভবনে অল্প পরিসরে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাসেবার চাহিদা বৃদ্ধি ও পরিসর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর শহরের নিলটুলী এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত আটতলা নিজস্ব ভবনে হাসপাতালটি স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে হাসপাতালটির পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। শুরুর দিকে যেখানে মাত্র ২০টি শয্যা ছিল, সেখানে বর্তমানে শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৩০টি। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ মিলিয়ে হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৩৩৮ জন জনবল কর্মরত রয়েছেন।
আধুনিক চিকিৎসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
আরোগ্য সদন হাসপাতালে বর্তমানে ২৩টি বিভাগে বিভিন্ন ধরনের রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালটি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, ক্যান্সারে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা খরচে বিশেষ ছাড়সহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মানবিক নীতির পেছনের গল্প
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আওলাদ হোসেন বাবর জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে হাসপাতালটির তিন সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ছিল। তাঁরা হলেন—সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ, ডা. আব্দুস সালাম চৌধুরী ও ডা. খান আনোয়ার আক্তার ফারুক।
তিনি বলেন, “এই তিনজন উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্টভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন—হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগীর কাছ থেকে অক্সিজেন বাবদ কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে তার চিকিৎসা বিল গ্রহণ করা যাবে না। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই আমরা সেই নীতিই অনুসরণ করে আসছি।”
মানবিকতায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার এই সময়ে দাঁড়িয়ে আরোগ্য সদন হাসপাতালের এমন মানবিক নীতি শুধু ফরিদপুর নয়, সারা দেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাতের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করে হাসপাতালটি আজ মানবিক চিকিৎসাসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই হাসপাতালটি ফরিদপুর জেলা সহ আশেপাশের জেলায় থেকে এখানে এসে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর আরোগ্য সদন হাসপাতালে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা–মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তে ৩৫ বছর ধরে অটল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

রেজাউল করিম – ফরিদপুর

যেখানে অর্থ ছাড়া চিকিৎসাসেবা কল্পনাই করা যায় না, সেখানে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়ে টানা ৩৫ বছর ধরে বিনামূল্যে রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা বাবদ কোনো বিল গ্রহণ করে না।এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কে অবস্থিত আরোগ্য সদন প্রাইভেট হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও এই নীতির ব্যতিক্রম ঘটেনি। অর্থনৈতিক চাপ, সময়ের পরিবর্তন কিংবা ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও মানবিক এই অঙ্গীকার অটুট রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পথচলা
আরোগ্য সদন হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি। শুরুতে পাঁচজন অংশীদারের উদ্যোগে শহরের একটি ভাড়া ভবনে অল্প পরিসরে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাসেবার চাহিদা বৃদ্ধি ও পরিসর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর শহরের নিলটুলী এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত আটতলা নিজস্ব ভবনে হাসপাতালটি স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে হাসপাতালটির পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। শুরুর দিকে যেখানে মাত্র ২০টি শয্যা ছিল, সেখানে বর্তমানে শয্যার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৩০টি। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ মিলিয়ে হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৩৩৮ জন জনবল কর্মরত রয়েছেন।
আধুনিক চিকিৎসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
আরোগ্য সদন হাসপাতালে বর্তমানে ২৩টি বিভাগে বিভিন্ন ধরনের রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালটি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, ক্যান্সারে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা খরচে বিশেষ ছাড়সহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মানবিক নীতির পেছনের গল্প
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আওলাদ হোসেন বাবর জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে হাসপাতালটির তিন সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ছিল। তাঁরা হলেন—সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জাহেদ, ডা. আব্দুস সালাম চৌধুরী ও ডা. খান আনোয়ার আক্তার ফারুক।
তিনি বলেন, “এই তিনজন উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্টভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন—হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগীর কাছ থেকে অক্সিজেন বাবদ কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে তার চিকিৎসা বিল গ্রহণ করা যাবে না। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই আমরা সেই নীতিই অনুসরণ করে আসছি।”
মানবিকতায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার এই সময়ে দাঁড়িয়ে আরোগ্য সদন হাসপাতালের এমন মানবিক নীতি শুধু ফরিদপুর নয়, সারা দেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাতের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করে হাসপাতালটি আজ মানবিক চিকিৎসাসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই হাসপাতালটি ফরিদপুর জেলা সহ আশেপাশের জেলায় থেকে এখানে এসে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন।