ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপি তিন, জামায়াত এক-শান্তিপূর্ণ ভোটে নতুন সমীকরণ গাজীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবুর রহমানের বিপুল ভোটে জয়, সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর এলাকা জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতঃস্ফূর্ত ভোটার উপস্থিতিতে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ পত্নীতলায় বিএনপি’র নির্বাচনী প্রচার মিছিল গাজীপুর ১আসন নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ নকুলহাটি বাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের তীব্র জ্যাম ভোগান্তিতে কর্মজীবী মানুষ নির্বাচনী নিরাপত্তায় ফরিদপুরে র‍্যাবের কঠোর নজরদারি: ড্রোন প্রযুক্তিতে চলবে মনিটরিং ফরিদপুর-৩ কৈজুরীর ঘোড়াদহ গ্রামে নায়াব ইউসুফের পক্ষে ধানের শীষের গণসংযোগ। কালিয়াকৈর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সমর্থনে লিফলেট বিতরণে ব্যস্ত সময় কাটছে নেতাকর্মীদের

ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপি তিন, জামায়াত এক-শান্তিপূর্ণ ভোটে নতুন সমীকরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর 

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিয়েছেন ভোটাররা। জেলার চার আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।

ফরিদপুর-১: ঐতিহাসিক জয় জামায়াতের

ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দাড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৭ হাজার ৬৬৯।

স্বাধীনতার পর এ আসনে এই প্রথম জামায়াত বিজয় অর্জন করল বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আইনগত জটিলতার কারণে দলটি এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহ আকরাম আলী পান ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-৩: সদর আসনে নায়াব ইউসুফের জয়

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব পান ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। ২৪ হাজার ৪৩০ ভোটের ব্যবধানে এ আসনে বিজয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ। এখানে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পান ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬৩৮। এ আসনে আটজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে সর্বমোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের ফলাফলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং জেলার অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপি তিন, জামায়াত এক-শান্তিপূর্ণ ভোটে নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর 

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিয়েছেন ভোটাররা। জেলার চার আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।

ফরিদপুর-১: ঐতিহাসিক জয় জামায়াতের

ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দাড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৭ হাজার ৬৬৯।

স্বাধীনতার পর এ আসনে এই প্রথম জামায়াত বিজয় অর্জন করল বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আইনগত জটিলতার কারণে দলটি এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহ আকরাম আলী পান ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-৩: সদর আসনে নায়াব ইউসুফের জয়

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব পান ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। ২৪ হাজার ৪৩০ ভোটের ব্যবধানে এ আসনে বিজয় নিশ্চিত করেন নায়াব ইউসুফ। এখানে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পান ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬৩৮। এ আসনে আটজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে সর্বমোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের ফলাফলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং জেলার অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবেন।