ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবচরে আধুনিক ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন সদরপুরে মোবাইল ব্যবসায়ীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ১৮ ঘণ্টা জিম্মি ও টাকা লুটের অভিযোগ: ২ নারী আটক শারদীয়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠ থেকে দশমি পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক 

ফরিদপুর-২ আসনে জয়ী শামা ওবায়েদ; মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম-ফরিদপুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশ-সমর্থিত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ফলে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শামা ওবায়েদ।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ফল ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ আসনে দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শামা ওবায়েদের এ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। ফরিদপুর অঞ্চলে দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি আগেই আলোচনায় ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সংসদে তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।

এদিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, তুলনামূলকভাবে ছোট কিন্তু অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে শামা ওবায়েদও রয়েছেন। নারী নেতৃত্বকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আভাস মিলছে বিভিন্ন সূত্রে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবকিছুই রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই থাকছে।

ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শামা ওবায়েদের সামনে এখন এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা—তিনি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে নগরকান্দা ও সালথাকে উন্নয়নের নতুন ধারায় এগিয়ে নেবেন।

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘিরে ফরিদপুরজুড়ে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর-২ আসনে জয়ী শামা ওবায়েদ; মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রেজাউল করিম-ফরিদপুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশ-সমর্থিত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মো. আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। ফলে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শামা ওবায়েদ।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ফল ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ আসনে দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শামা ওবায়েদের এ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। ফরিদপুর অঞ্চলে দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি আগেই আলোচনায় ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সংসদে তার উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।

এদিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, তুলনামূলকভাবে ছোট কিন্তু অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে শামা ওবায়েদও রয়েছেন। নারী নেতৃত্বকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আভাস মিলছে বিভিন্ন সূত্রে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবকিছুই রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই থাকছে।

ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শামা ওবায়েদের সামনে এখন এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা—তিনি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে নগরকান্দা ও সালথাকে উন্নয়নের নতুন ধারায় এগিয়ে নেবেন।

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘিরে ফরিদপুরজুড়ে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে।