ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় দেখা মিলছে রিকশা চালকদের দালালি, রোগী–স্বজনদের ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ১০:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দালালচক্রের পরিধি বাড়ছে। বর্তমানে কিছু রিকশাচালকও দালালির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন, যা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘নিখিল’ ও ‘রিপন’ নামে দুই রিকশাচালক নিজেদের রোগী সহায়ক বা পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রোগীকে নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন। বিশেষ করে “ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার”সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের সহজ-সরলতার সুযোগ নেন এই দালালরা। হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাফেরা করে তারা রোগীদের নানা কথা বলে বিভ্রান্ত করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, রোগী নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তারা কমিশন গ্রহণ করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ করতে হয় এবং কেউ কেউ প্রতারণার শিকার হন।
স্থানীয়দের মতে, পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও এর আশপাশে এ ধরনের দালালদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে পুরনো বাসস্ট্যান্ড, ভাঙ্গা রাস্তার মোড়, হোটেল লাক্সারির সামনে এবং রাফেলস ইন-এর মোড় এলাকায় প্রায়ই দালালদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এসব স্থানে দাঁড়িয়ে তারা হাসপাতালগামী রোগী ও স্বজনদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের প্রলোভন দেখান।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক রোগী নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলেও দালালদের প্ররোচনায় তারা অন্য ডাক্তার বা অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বাধ্য হন। এতে করে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং রোগীদের সময় ও অর্থ—দুই-ই অপচয় হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের দেখাদেখি অনেকেই এখন এই পথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে দিন দিন সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং দালালদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, প্রশাসন যদি সঠিকভাবে তদারকি করে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে ব্যাঙের ছাতার মতো নতুন নতুন দালাল গড়ে ওঠার সুযোগ পেত না। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।




















