ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের যাত্রা শুরু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম,ফরিদপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলার হাজারো শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জাহানারা আজিজ মেনশনের নিচতলায় বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গার্ড অব অনার প্রদান এবং দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধন শেষে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা, তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এটিএম জাফর হাসান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম এবং ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এতদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য শিক্ষার্থীদের গাজীপুরে ছুটতে হতো। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবকিছুরই চাপ বহন করতে হতো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। নতুন এ আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হওয়ায় এখন ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার কলেজ ও শিক্ষার্থীরা স্থানীয়ভাবেই অধিকাংশ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আঞ্চলিক কেন্দ্র শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, একাডেমিক তদারকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি।
আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্মরণ করেন যে, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে নানা সীমাবদ্ধতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল বলে তারা মন্তব্য করেন। নতুন এই আঞ্চলিক কেন্দ্র সেই স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন।
উল্লেখ্য, ফরিদপুরে চালু হওয়া এই কেন্দ্রটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম আঞ্চলিক শাখা হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলো। স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ ফরিদপুর অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।


















