ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি- প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ধৈর্যশীল অবস্থান প্রশংসিত
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম-ফরিদপুর
ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ও দুপুরে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুরো ঘটনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শান্ত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করায় উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মধ্যে তার প্রশংসা লক্ষ্য করা গেছে।
সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আজিজ ম্যানশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলl আমন্ত্রিত থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। পরে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এরপর ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তব্য চলাকালে অপর দুই সংসদ সদস্য তাদের অনুসারীদের নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করলে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের অনুসারীরা স্লোগান দিতে থাকলে হলরুমে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অত্যন্ত সংযত ভাষায় বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফরিদপুরে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমি সময়মতো উপস্থিত হয়েছি। এখানে কাউকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ না করি, তাহলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের আচরণ থেকে সাধারণ মানুষ শিক্ষা নেয়। তাই আমাদের সবার উচিত শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।”
উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মতে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও শামা ওবায়েদ ইসলাম ধৈর্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও তিনি উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
পরে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামান্য সময়ের ব্যবধান থেকেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদও ফরিদপুরে তাদের পরিবারের শিক্ষা বিস্তারে অবদানের কথা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রভাবই এ ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। তবে পুরো ঘটনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের পরিমিত ও মার্জিত আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।


















