ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সদরপুরে অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল ধ্বংসের অভিযানে হামলার অভিযোগ: তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি নওগাঁ সদর থানার অভিযানে ট্রান্সফরমার চোর গ্রেপ্তার পত্নীতলায় ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সদরপুরে চুরির অভিযোগ ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ‎মাদারীপুরে ঘরে রাখা বোমার বিস্ফোরণে উড়ে গেল টিনের চাল আতঙ্কে এলাকাবাসী হাতীর সাথে ধাক্কা লেগে অটোরিকশা উল্টে গিয়ে শিশু নিহত পরিত্যক্ত নবজাতক ও মায়ের পাশে প্রশাসন, চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিল সরকার শিবচরে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে অতিষ্ঠ মানুষের জনজীবন ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি খাল খননে টাকা সাশ্রয়: পিআইও নুরুন্নাহারের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রেজাউল করিম-বিশেষ প্রতিনিধি 

 

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের বিশাল দাবি সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর থেকে আগত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা। সমাবেশে বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজের বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও পেশাগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং যুগে যুগে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ, হয়রানি ও অবমূল্যায়নের শিকার হতে হয়েছে। সাংবাদিকদের “জাতির বিবেক” বলে আখ্যায়িত করা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনমান উন্নয়ন কিংবা কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কোনো সরকারই দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজের অন্যান্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তায় রাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাষ্ট্র বরাবরই নীরব থেকেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিক সমাজকে আর কথার ফুলঝুরি দিয়ে বিভ্রান্ত রাখা যাবে না। সাংবাদিকরা এখন সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে বক্তারা তথ্য মন্ত্রীর সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ও নিয়োগ নীতিমালা তৈরির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার কিছু কুলীন সাংবাদিক ও আমলাদের পরামর্শে সাত বছর ধরে সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। এখন সময় এসেছে রাজধানীকেন্দ্রিক গুটিকয়েক সাংবাদিক নয়, দেশের ৬৪ জেলার তৃণমূল সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যা ও দাবির কথা শোনার।

বক্তারা বলেন, “পুরনো ধ্যান-ধারণার সাংবাদিকতা দিয়ে আর চলবে না। সময়ের প্রয়োজনে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তথ্য কমিশন গঠন করে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বক্তারা বলেন, “সাংবাদিকতার উন্নয়নের নামে আর মুলা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।”

নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন করে যেন কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়। বর্তমান সরকারকে দ্রুত সাংবাদিকদের দাবি সংসদে উত্থাপন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ ১৪ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ও এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদ খান, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান বীথি মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, নুরুল হুদা বাবু, সহ-সম্পাদক সবুজ হোসেন রাজা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজি, আব্দুল বাতেন বাচ্চু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ খায়রুল আলম, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, মাহবুবুর রহমান হিরু, সদস্য জামাল হোসেন, শাওন বাঁধন, আসমা আক্তার, মৌসুমি আক্তার, রোজি আক্তার, মরিয়ম আক্তার মারিয়া, রোমানা সানজুসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, অমিত সরকার, মোঃ শাহীন শেখ, হাবিবুর রহমান,সেক মোহাম্মদ আফজাল, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ শামিম হোসেন, মোঃ ফজলুল হক,আশিষ সাহা সহ আরো অনেকে। আরো উপস্থিত ছিলেন খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন, বিএমএসএফ ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মুশাহিদ আলী, নারায়ণগঞ্জ বন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক জিকে রাসেল, বরগুনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার সাংবাদিক আব্দুল কাদের অপু এবং লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ফারুক আহমেদও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে সারাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি 

আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

 

 

রেজাউল করিম-বিশেষ প্রতিনিধি 

 

জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের বিশাল দাবি সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য কড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর থেকে আগত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা। সমাবেশে বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সমাজের বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও পেশাগত সংকটের চিত্র তুলে ধরে সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং যুগে যুগে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ, হয়রানি ও অবমূল্যায়নের শিকার হতে হয়েছে। সাংবাদিকদের “জাতির বিবেক” বলে আখ্যায়িত করা হলেও বাস্তবে তাদের জীবনমান উন্নয়ন কিংবা কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কোনো সরকারই দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজের অন্যান্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মর্যাদা ও জীবিকার নিশ্চয়তায় রাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাষ্ট্র বরাবরই নীরব থেকেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাংবাদিক সমাজকে আর কথার ফুলঝুরি দিয়ে বিভ্রান্ত রাখা যাবে না। সাংবাদিকরা এখন সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে বক্তারা তথ্য মন্ত্রীর সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ও নিয়োগ নীতিমালা তৈরির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার কিছু কুলীন সাংবাদিক ও আমলাদের পরামর্শে সাত বছর ধরে সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। এখন সময় এসেছে রাজধানীকেন্দ্রিক গুটিকয়েক সাংবাদিক নয়, দেশের ৬৪ জেলার তৃণমূল সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যা ও দাবির কথা শোনার।

বক্তারা বলেন, “পুরনো ধ্যান-ধারণার সাংবাদিকতা দিয়ে আর চলবে না। সময়ের প্রয়োজনে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তথ্য কমিশন গঠন করে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বক্তারা বলেন, “সাংবাদিকতার উন্নয়নের নামে আর মুলা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।”

নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন করে যেন কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়। বর্তমান সরকারকে দ্রুত সাংবাদিকদের দাবি সংসদে উত্থাপন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নসহ ১৪ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ও এডিটরস ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদ খান, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান বীথি মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা, নুরুল হুদা বাবু, সহ-সম্পাদক সবুজ হোসেন রাজা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজি, আব্দুল বাতেন বাচ্চু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ খায়রুল আলম, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, মাহবুবুর রহমান হিরু, সদস্য জামাল হোসেন, শাওন বাঁধন, আসমা আক্তার, মৌসুমি আক্তার, রোজি আক্তার, মরিয়ম আক্তার মারিয়া, রোমানা সানজুসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বাশার, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, অমিত সরকার, মোঃ শাহীন শেখ, হাবিবুর রহমান,সেক মোহাম্মদ আফজাল, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ শামিম হোসেন, মোঃ ফজলুল হক,আশিষ সাহা সহ আরো অনেকে। আরো উপস্থিত ছিলেন খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন, বিএমএসএফ ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মুশাহিদ আলী, নারায়ণগঞ্জ বন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক জিকে রাসেল, বরগুনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার সাংবাদিক আব্দুল কাদের অপু এবং লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ফারুক আহমেদও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে সারাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।