ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসক কর্তৃক ইজারা বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই মধুমতী নদীতে বালু উত্তোলনে- মশগুল খন্দকার নাসিরুল ইসলাম  ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত। ফরিদপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: ৬ মামলায় ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা নগরকান্দায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান সদরপুরে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত। ফরিদপুরে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন। ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফরিদপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এক দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ফরিদপুর সদর উপজেলার হলরুমে “ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প”-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম প্রশাসন ও অর্থ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসরিন জাহান।

এ সময় জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলে প্রতিনিধি, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান, জেলে প্রতিনিধি কামাল খান, ইলিশ ব্যবসায়ী সুশান্ত মালোসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, বিশ্বের ১১টি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ৫৮ দিনব্যাপী জাটকা ও মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এই সময়ে জেলেদের সাময়িক কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে বড় আকারের মাছ আহরণের মাধ্যমে তারা অধিক লাভবান হবেন। তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার ঘোষিত আইন মেনে চলতে হবে। মাছ বড় হলে উৎপাদন বাড়বে, আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের পাশে সরকার রয়েছে এবং সরকারের নির্ধারিত সহায়তা ও অনুদান যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জেলেদের সুখ-দুঃখের কথা শুনে তাদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদ সদস্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা সফলভাবে সম্পন্ন হলে জলাশয়ের পরিবেশ উন্নত হবে এবং মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলেদের আয় ও জীবনমান আরও উন্নত হবে।

জেলে প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আগামীতে ইলিশ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য আরও বাড়তি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবিক সংকটে পড়তে হয়। এ বিষয়ে সরকার আন্তরিক সহযোগিতা বাড়াবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার ও মৎস্য বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ইলিশ সম্পদকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৫:১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এক দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ফরিদপুর সদর উপজেলার হলরুমে “ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প”-এর আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম প্রশাসন ও অর্থ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসরিন জাহান।

এ সময় জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলে প্রতিনিধি, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান, জেলে প্রতিনিধি কামাল খান, ইলিশ ব্যবসায়ী সুশান্ত মালোসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, বিশ্বের ১১টি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ৫৮ দিনব্যাপী জাটকা ও মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এই সময়ে জেলেদের সাময়িক কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে বড় আকারের মাছ আহরণের মাধ্যমে তারা অধিক লাভবান হবেন। তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার ঘোষিত আইন মেনে চলতে হবে। মাছ বড় হলে উৎপাদন বাড়বে, আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের পাশে সরকার রয়েছে এবং সরকারের নির্ধারিত সহায়তা ও অনুদান যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জেলেদের সুখ-দুঃখের কথা শুনে তাদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদ সদস্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা সফলভাবে সম্পন্ন হলে জলাশয়ের পরিবেশ উন্নত হবে এবং মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলেদের আয় ও জীবনমান আরও উন্নত হবে।

জেলে প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আগামীতে ইলিশ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য আরও বাড়তি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবিক সংকটে পড়তে হয়। এ বিষয়ে সরকার আন্তরিক সহযোগিতা বাড়াবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার ও মৎস্য বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের ইলিশ সম্পদকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।