ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকোরে বিশেষ অভিযানে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়  কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কথিত নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতার বি এন পির প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল  ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক ২৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক সালথায় হাত- পা কাটা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে কাবিটা ও কাবিখার ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চেক বিতরন শিবচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ ভাইর হাতে ভাই খুন চরভদ্রাসনে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৯ শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ, অবগত নয় জেলা কর্মকর্তা ফরিদপুরে বিএসটিআইর বিশেষ অভিযান: লাইসেন্সবিহীন প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে সতর্কতা ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ১৯০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা দীর্ঘ সময়েও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা এজাহারে নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী জানান, ছালাম বেপারীর প্রথম স্ত্রীর ভাই সাহেব আলী (২৮) ও হামেদ আলী (৩৩)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে ওই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ছালাম বেপারীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ বিকেলে মমিনখার হাট এলাকায় এ বিষয় নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে ছালাম বেপারী উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তাকে ধরে আনার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ছালাম বেপারীকে খুঁজতে বের হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট সংলগ্ন এলাকায় তাকে পেয়ে মারধর শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেব আলী ছালাম বেপারীকে ঝাপটে ধরে ইটের সড়কে আছাড় মারলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হামেদ আলীও তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

এ সময় বাধা দিতে গেলে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কার বেপারীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত ছালাম বেপারীকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ মুন্সি ডাঙ্গী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ছালাম বেপারীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া তার পরামর্শে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কারের নামেও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল শেখ বলেন, “আসামিরা যেন পালাতে না পারে এবং প্রশাসন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর জানান, আসামিরা ঢাকা হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জামিন নিয়েছিল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা দীর্ঘ সময়েও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা এজাহারে নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী জানান, ছালাম বেপারীর প্রথম স্ত্রীর ভাই সাহেব আলী (২৮) ও হামেদ আলী (৩৩)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে ওই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ছালাম বেপারীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ বিকেলে মমিনখার হাট এলাকায় এ বিষয় নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে ছালাম বেপারী উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তাকে ধরে আনার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ছালাম বেপারীকে খুঁজতে বের হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট সংলগ্ন এলাকায় তাকে পেয়ে মারধর শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেব আলী ছালাম বেপারীকে ঝাপটে ধরে ইটের সড়কে আছাড় মারলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হামেদ আলীও তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

এ সময় বাধা দিতে গেলে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কার বেপারীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত ছালাম বেপারীকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ মুন্সি ডাঙ্গী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ছালাম বেপারীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া তার পরামর্শে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কারের নামেও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল শেখ বলেন, “আসামিরা যেন পালাতে না পারে এবং প্রশাসন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর জানান, আসামিরা ঢাকা হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জামিন নিয়েছিল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।