ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী এম. টি. আখতার টুটুল এই তাড়ানোকে কেন্দ্র করে আলফাডাঙ্গায় শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ, আটক ১ সদরপুরে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কাব লিডার নির্বাচিত ভাঙ্গার শিক্ষিকা চম্পা আক্তার, এমপি বাবুলের অভিনন্দন ফরিদপুরে সশস্ত্র হামলা, কুপিয়ে আহত ৪; নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে মামলা রাস্তার কাজে বিটুমিনের ধোঁয়ায় অসুস্থ ৩-৪ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি ১ সদরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালাম মিয়ার ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুরের সালথায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, থানায় এজাহার দায়ের। নওগাঁ মধ্যরাতের অভিযানে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পত্নীতলায় ১৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা দীর্ঘ সময়েও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা এজাহারে নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী জানান, ছালাম বেপারীর প্রথম স্ত্রীর ভাই সাহেব আলী (২৮) ও হামেদ আলী (৩৩)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে ওই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ছালাম বেপারীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ বিকেলে মমিনখার হাট এলাকায় এ বিষয় নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে ছালাম বেপারী উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তাকে ধরে আনার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ছালাম বেপারীকে খুঁজতে বের হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট সংলগ্ন এলাকায় তাকে পেয়ে মারধর শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেব আলী ছালাম বেপারীকে ঝাপটে ধরে ইটের সড়কে আছাড় মারলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হামেদ আলীও তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

এ সময় বাধা দিতে গেলে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কার বেপারীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত ছালাম বেপারীকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ মুন্সি ডাঙ্গী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ছালাম বেপারীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া তার পরামর্শে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কারের নামেও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল শেখ বলেন, “আসামিরা যেন পালাতে না পারে এবং প্রশাসন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর জানান, আসামিরা ঢাকা হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জামিন নিয়েছিল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার ফরিদপুর।

ফরিদপুরে ছালাম বেপারী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা দীর্ঘ সময়েও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা এজাহারে নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী জানান, ছালাম বেপারীর প্রথম স্ত্রীর ভাই সাহেব আলী (২৮) ও হামেদ আলী (৩৩)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে ওই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ছালাম বেপারীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ বিকেলে মমিনখার হাট এলাকায় এ বিষয় নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে ছালাম বেপারী উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তাকে ধরে আনার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে অভিযুক্তরা ছালাম বেপারীকে খুঁজতে বের হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট সংলগ্ন এলাকায় তাকে পেয়ে মারধর শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাহেব আলী ছালাম বেপারীকে ঝাপটে ধরে ইটের সড়কে আছাড় মারলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হামেদ আলীও তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

এ সময় বাধা দিতে গেলে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কার বেপারীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত ছালাম বেপারীকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ মুন্সি ডাঙ্গী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ছালাম বেপারীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই আলাউদ্দিন বেপারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া তার পরামর্শে নিহতের ছোট ভাই আবু বক্কারের নামেও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতুব্বর রেজাউল শেখ বলেন, “আসামিরা যেন পালাতে না পারে এবং প্রশাসন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর জানান, আসামিরা ঢাকা হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জামিন নিয়েছিল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।