ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদকবিরোধী সভা ঘিরে ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এসিল্যান্ডের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার উলানিয়া হাট মাধ্যমিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন সালথার গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন নূর মোহাম্মদ নুরু জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন ফরিদপুরে ২৬ লাখ টাকার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার টঙ্গীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, নিষিদ্ধ সংগঠনের কথিত চোরাগোপ্তা তৎপরতার প্রতিবাদের দাবি ২০০ টাকার বাকবিতণ্ডা থেকে প্রাণহানি! লাথির আঘাতে যুবকের মৃত্যু। সম্পত্তির লোভে মায়ের ওপর নৃশংস হামলা, ধামইরহাটে ছেলে গ্রেফতার

ফরিদপুরে কাপরের রশি টানানোকে কেন্দ্র করে এক যুবক খুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর শহরে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কাপড় শুকানোর রশি টানানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল আহমেদ ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েলদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলদের বাড়ির প্রবেশপথের সামনে কাপড় শুকানোর জন্য রশি টানাতে গেলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে বাকবিতণ্ডা হলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরফরাজের পরিবারের কয়েকজন সদস্য লাঠিসোঁটা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েল ও তার ভাই সোহেলের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত সোহেল আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে কাপরের রশি টানানোকে কেন্দ্র করে এক যুবক খুন

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর শহরে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কাপড় শুকানোর রশি টানানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল আহমেদ ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েলদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলদের বাড়ির প্রবেশপথের সামনে কাপড় শুকানোর জন্য রশি টানাতে গেলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে বাকবিতণ্ডা হলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরফরাজের পরিবারের কয়েকজন সদস্য লাঠিসোঁটা ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েল ও তার ভাই সোহেলের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত সোহেল আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।