ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সম্পত্তির লোভে বোনকে হত্যার অভিযোগ নগরকান্দায় সামাজিক সচেতনতা সভা, কৃষকদের সহায়তা ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন আগুনঝরা রঙে কৃষ্ণচূড়া, গ্রীষ্মের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা জনপদ জামালপুরে জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত  তারার মেলা স্কুলের আয়োজনে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের বিদায় সংবর্ধনা এফপিএবি ফরিদপুর শাখার সভা অনুষ্ঠিত, সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ ফরিদপুরে শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজ, খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবার নিখোঁজ সংবাদ: ফজরের নামাজে বের হয়ে আর ফেরেননি খোরশেদ শেখ সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে নৃশংস হামলা, যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন

সম্পত্তির লোভে বোনকে হত্যার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে আপন বোনকে হত্যার পর লাশ গোপন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের উত্তর বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের বাসিন্দা একরামুল হক (পিতা: মৃত ইসমাইল কেরানী) দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার মৃত বড় ভাই মন্টু মিয়ার একমাত্র কন্যা মুন্নি বেগমসহ নিজ তিন বোনকেও তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী রাহেনা বেগম, যিনি উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, নিজ নামে কিছু জমির মালিক ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরিকল্পিতভাবে রাহেনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ একটি কুঁড়ে ঘরে গোপন রাখা হয়। কয়েকদিন পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে লাশটি দেখতে পান।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত একরামুল হক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঘটনাটিকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মরদেহে পচন ধরায় স্বাভাবিক নিয়মে গোসল করানো সম্ভব হয়নি। পরে সাহেরা ও উম্মে কুলছুম নামে দুই নারী মরদেহে পানি ঢেলে দাফনের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্রয়োজন হলে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং উলিপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

⚖️ এলাকাবাসীর দাবি:

ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত

মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত

দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা

(ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেটে জানানো হবে)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সম্পত্তির লোভে বোনকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে আপন বোনকে হত্যার পর লাশ গোপন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের উত্তর বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের বাসিন্দা একরামুল হক (পিতা: মৃত ইসমাইল কেরানী) দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার মৃত বড় ভাই মন্টু মিয়ার একমাত্র কন্যা মুন্নি বেগমসহ নিজ তিন বোনকেও তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী রাহেনা বেগম, যিনি উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, নিজ নামে কিছু জমির মালিক ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরিকল্পিতভাবে রাহেনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ একটি কুঁড়ে ঘরে গোপন রাখা হয়। কয়েকদিন পর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে লাশটি দেখতে পান।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত একরামুল হক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ঘটনাটিকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মরদেহে পচন ধরায় স্বাভাবিক নিয়মে গোসল করানো সম্ভব হয়নি। পরে সাহেরা ও উম্মে কুলছুম নামে দুই নারী মরদেহে পানি ঢেলে দাফনের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, প্রয়োজন হলে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং উলিপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

⚖️ এলাকাবাসীর দাবি:

ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত

মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত

দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা

(ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেটে জানানো হবে)