বিএসটিআইয়ের সার্ভিল্যান্স অভিযান: ফরিদপুরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যে মিলল ব্যাপক অনিয়ম
- আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম -ফরিদপুর
পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং মোড়কজাত নিবন্ধন সনদের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ফরিদপুর সদর উপজেলায় বিশেষ সার্ভিল্যান্স/স্কোয়াড অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) পরিচালিত এই অভিযানে বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালস ও হাউজহোল্ড ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানের শুরুতে সদর উপজেলার ডোমরাকান্দি এলাকায় অবস্থিত নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইউপিভিসি পাইপ উৎপাদন করলেও সিএম লাইসেন্স ছাড়া পণ্য বিক্রয়-বিতরণ করছিল বলে জানা যায়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিক্রয় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আলীপুর এলাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স শোরুমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—Walton, RANGS Electronics Limited, Esquire Electronics Limited, Singer Bangladesh Limited, Butterfly Marketing Limited, Transcom Digital এবং Electromart Limited।
অভিযানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যে বিএসটিআইয়ের লোগো ও ‘বি’ মার্ক ব্যবহারে অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে লোগো থাকলেও ‘বি’ মার্ক অনুপস্থিত, আবার অনেক পণ্যে কোনো ধরনের বিএসটিআই অনুমোদনের চিহ্নই পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আমদানিকৃত পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের সীল ও বিএসটিআইয়ের লোগো না থাকায় ভোক্তা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গিজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যে এ ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া কিছু কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও বৈদ্যুতিক পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলকভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো, ‘বি’ মার্ক এবং QR কোড সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই অনুমোদিত আমদানিকারকের সীল ব্যবহারের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন বিএসটিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অফিস প্রধান মোঃ কামাল হোসেন। তার সঙ্গে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মোসাঃ আলেয়া খাতুন এবং ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন অংশ নেন।
বিএসটিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।






















