মধুখালীতে ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি,সচিব ও উদ্যোক্তাকে শোকজ,পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন চেয়ারম্যান
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ৭৫৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রাকিবুল হাসান মিঠু, মধুখালী উপজেলা প্রতিনিধি,ফরিদপুর
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কোড়কদি ইউনিয়ন পরিষদে গত ৩ জুলাই ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে কোড়কদি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন,নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প সহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় ইউনিয়ন সচিব এস এম আরাফাত হাসান ও উদ্যোক্তা হাসিবুল ইসলাকে তাৎক্ষণিক মৌখিক শোকজ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাসেল, এ সময় চেয়ারম্যান পরিষদে অনুপস্থিত ছিলেন।
সরজমিন পরিদর্শনে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা গ্রহিতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের একটি টিম গত রবিবার কোড়কদী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান কোথায় জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত সেবা গ্রহীতারা বলেন চেয়ারম্যান বেশিরভাগ সময় ই এলাকার বাইরে থাকেন মাঝেমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এতে আমারা সেবা গ্রহীতারা অনেক হয়রানির শিকার হই।
এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত সচিব ও উদ্যোক্তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে দেখা যায়, সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বিভিন্ন গ্রহীতার জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ড এর সাথে টাকা পিন-আপ করে রাখা হয়েছে।বিষয়টি তাৎক্ষণিক সাংবাদিক রাকিবুল হাসান মিঠু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রাসেলকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পাঠায়,সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাসেল কোড়কদি ইউনিয়ন পরিষদে এসে ঘটনার সত্যতা পায়।
এছাড়াও সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়ম, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সেবা প্রদান কার্যক্রমে জবাবদিহিতার ঘাটতি থাকায় সচিব ও উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি আমলে নিয়ে (ইউএনও) আবু রাসেল তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করার আদেশ দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রাসেল বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাবে। সাধারণ জনগণের সেবা বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না।
এছাড়াও অত্র ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা নগদ অর্থ ৭,২৫,৬৫০ টাকা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
কাবিখা- চাল, পাঁচ মেট্রিকটন প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
কাবিখা-গম, পাঁচ মেট্রিকটন প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
কাবিটা নগদ অর্থ ৩,৬০,০০০ তৃতীয়
প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
কাবিখা-চাল দুই মেট্রিকটন তৃতীয়
প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
কাবিখা-গম, দুই মেট্রিকটন তৃতীয়
প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
গ্রামীন অবকাঠাম রক্ষণাবেক্ষণ টি আর ৭,৭৯,৫০০ প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
গ্রামীন অবকাঠাম রক্ষণাবেক্ষণ টি আর ৩,৩০,৫০০ তৃতীয় প্রকল্প ২৪-২৫ অর্থবছর।
এসব প্রকল্পের অর্থ দিয়ে নামে মাত্র কিছু কিছু জায়গায় কাজ করেছে।এছাড়াও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করেছে চেয়ারম্যান মুকুল হোসেন রিক্ত। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেয়ারম্যান মুকুল হোসেন রিক্তর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে মামুন সরদার নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, সেবা পাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন যাবৎ ঘুরতেছি। চেয়ারম্যান কে আমরা এখানে এসে পাইনি। আমাকে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য ১৫০ টাকা করে তিনটি কাগজে ৪৫০ টাকা দিতে হবে জানিয়েছে, এরপর কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছি বাকিটা কাজ করার পরে দিতে হবে।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মুকুল ছিলেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। জুলাই-আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন। ৫ ই আগস্টের পরে এই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে তেমন একটা আসেন না। বেশিরভাগ সময় ই শুনি চেয়ারম্যান ঢাকায় থাকেন। আমরা ঠিক মত সেবা পাই না, এগুলো দেখার কেউ নাই।






















