ইউরোপে মানব পাচারকারী শওকতের সহযোগী নগরকান্দার হাবিব সোনিয়া দম্পতি
- আপডেট সময় : ০৪:২২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ ৪৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
দেশের যুবসমাজের বড় একটি অংশ উন্নত জীবনের খোঁজে অর্থ উপার্জনের জন্য জীবন বাজি রেখে প্রবাস জীবনের আশায় দেশান্তরিত হয়। এজন্য পরিবারের সর্বস্ব খুইয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি জমায় উন্নত বিশ্বের ইউরোপ আমেরিকায়। আর এসব স্বপ্ন খোঁজা যুবকের পিছু লেগে আছে ভয়ংকর এক মানব পাচারের চক্র। এ সকল চক্রের সহযোগীরা ছড়িয়ে আছে শহরের কিম্বা গ্রামের কোনো কোনো কোনায়। এমনই মানব পাচার চক্রের ভয়ংকর এক দম্পতি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার ডাঙ্গী ইউনিয়নের খৈয়া গ্রামের হাবিব সোনিয়া দম্পতি।
এই দম্পতি এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার “সলিথা” গ্রামের শওকতের হয়ে।
জানা যায় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার ডাঙ্গী ইউনিয়নের খৈয়া গ্রামের হাবিব মুন্সী ও তার স্ত্রী সোনিয়া তাদের নিজ এলাকার বেশ কিছু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি লিবিয়া থেকে ইউরোপের ইতালি পাঠানোর কথা বলে বহু পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিচ্ছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এমনকি অনেক ভুক্তভোগী মুক্তিপণ দিয়ে দেশে এসে টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও দেখা যায় একটি মামলার বাদী দুইজন হয়ে দুইটি মামলা করে দুই পরিবার কে হয়রানি করেন। এরকম তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের সাথে ভুক্তভোগী কয়েকজন ইউরোপের ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে লিবিয়া থেকে ফেরত যুবকের সাথে কথা হলে হাসান নামে এক যুবক ভয়াবহ বর্ণনা করেন, এ সময় তিনি বলেন লিবিয়া থেকে ইতালি যাবার নির্মম কালো অভিজ্ঞতা যেখানে বেরিয়ে আসছে প্রতারক মানব পাচার চক্রের সদস্য ও সহযোগীদের ভয়ংকর চেহারা, লিবিয়া থেকে ইতালির যাবার স্বপ্নভঙ্গ ভুক্তভোগী আরেক যুবক জয় বেপারী জানান- বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাবার উদ্দেশ্যে আমি হাবিব মুন্সি ও তার স্ত্রী সোনিয়াকে ১২ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেই, পরে আমি লিবিয়া যাবার পর গেমে পাঠানোর কথা বলে ২ লক্ষ টাকা নেয় পরে সাগরের মধ্যে ট্রলারে চারদিন রেখে মারধর করে এবং বাড়িতে মুক্তিপণ চায় পরবর্তীতে আমার বাবা দেশ থেকে আরও তিন লক্ষ টাকা পাঠানোর পর আমাকে জেলে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আমার সেই মানব পাচার কারী চক্রের প্রধান হোতা ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার ‘সলিথা’ গ্রামের শওকত আমাদেরকে চার মাস জেল খাটানোর পর জেল থেকে ছাড়িয়ে আমার কাছে পুনরায় ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায় মেরে ফেলার হুমকিতে। সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে জয় বেপারীর বাবা আইয়ুব বেপারী জানান- আমার জমি জমা বিক্রি করে আমার ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য ১২ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয় পরবর্তীতে শওকতের কথা মত হাবিব ও সোনিয়া বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন সময় লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করে ও আমার ছেলেকে লিবিয়া থেকে ইতালি নেবে বলে।
তখন আমি নিরুপায় হয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি গাভী বিক্রি করে ছেলের বেশি আয়ের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা দেই। কিন্তু যখন হাবিব সোনিয়া দম্পতি মুক্তিপণ হিসাবে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করলে আমাদের সকলের বাড়ি একই গ্রামের হওয়ার সুবাদে আমিও বলি আমার ছেলের কিছু হলে তোদেরকে আমি ঠিক থাকতে দেব না, তখন আমি তাদেরকে আরো দুই লাখ টাকা দিলে কিছুদিন পর তারা আমার ছেলে জয় ব্যাপারীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
আমি জমি ও গরু বিক্রি করে এখন নিঃস্ব আবার চরম নির্যাতন ও মৃত্যু পথ থেকে ফিরে আমার ছেলে জয় এখন হতাশা গ্রস্থ ও একেবারেই বেকার।
আমি এমন প্রতারক ও মানব পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ও আমার অর্থ ফেরত চাই। দালাল চক্রের মূল হোতা শওকত লিবিয়া কারাগারে ও তার বোন সোনিয়ার স্বামী হাবিব মুন্সি বর্তমানে সৌদি প্রবাসী থাকায় তাদের সাথে ঘটনা সম্পর্কে জানতে না পারার জন্য দৈনিক ফরিদপুর মহানগর বার্তা পত্রিকার প্রতিনিধির সাথে ফোনে কথা হয় মূল হোতা শওকত এর বোন ও হাবিব মুন্সির স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে, এ সময় সোনিয়া বলেন আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে,গত ০৮/০৭/২০২৫ তারিখে আমার ৩ মাস বয়সী বাচ্চা মারা গেছে আমি মানসিক ভাবে অসুস্থ এবং আমি ডাঙ্গী ইউনিয়নে আমি আমার স্বামীর বাড়িতে আপাতত যাব না ওখানে আমার কোন শুভাকাঙ্ক্ষী নেই, আমি আইয়ুব ব্যাপারীকে বলেছিলাম আমার ভাই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জুলাই মাসে দেশে এলে আপনারা টাকা পেলে আমরা দিয়ে দেব আর আমার ভাই টাকা পেলে আপনারা দিয়ে দেবেন কিন্তু আইয়ুব ব্যাপারীর ছেলে তারপরও জয় প্রায়ই আমাকে বিরক্ত করে এই বলে সোনিয়া ফোন কেটে দেন।






















