খুলনা ওয়াসা : পদোন্নতি বদলি দরপত্র বানিজ্যই তার কাজ।
- আপডেট সময় : ০৪:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনা ওয়াসার কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিএম আব্দুল গফফার। খুলনা ওয়াসার নশকা কারক পদে চাকুরি করেন। গত ১৫ বছরে তিনি কিছুর নকশা করেছেন এমন নজির নেই। দাপ্তরিক কাজও করেন কালেভদ্রে সারাদিন তাকে ব্যাস্ত দেখা যায়, আউটসোর্সিংয়ে কর্মচারী নিয়োগ, মাস্টার রোল, কর্মচারীদের স্থায়ী করন, পদোন্নতি, বদলি,আবাসন বরাদ্দ টেন্ডারবাজির মতো নানা কাজের তদবিরে। এই অভিযোগ গুলো ওয়াসার অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের গত বছর অভ্যুত্থানের পর আবদুল গফফারের প্রভাব আরো বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াত সমর্থিত কয়েকজন কর্মচারীদের সাথে জোট বেধে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হেনস্তা, ছাত্রদের ডেকে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি, পত্রিকায় ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদ তৈরি করে চাপে রেখে অন্যায্য দাবি আদায় সহ নানা অপকর্ম শুরু করেন। বিভিন্ন অনৈতিক দাবি পুরনে কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। তাদের অতৎপরতায় ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওয়াসা সুত্রে জানাগেছে, গফফারের নিয়োগ হয়েছিল পাম্প অপারেটর পদে। এরপর চাকুরি নকশাকারক পদে আপত্তিকরন হলেও তিনি পাম্প চালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। গত বছর ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি প্রভাব খাটিয়ে পাম্প থেকে প্রধান কার্যালয়ে চলে আসেন। জোট বাধেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত কর্মচারীদের সাথে। এর আগে ১১ জুলাই আওয়ামীলীগ নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। গত বছর পাচ আগষ্ট ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানের পর চাপের মুখে পড়েন ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ। বিপুল অংকের টাকা নিয়ে তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ বাড়াতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন তারা। মোটা অংকের টাকা চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু আব্দুল্লাহ অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ শুরু হলে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপর দরপত্র, বদলী ও পদোন্নতি বানিজ্য মনোযোগ দেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা হওয়ার পর থেকে আবদুল গফফার নিয়মিত অফিস করেন না। হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, তিনি গত ২৬ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সেখানে সাক্ষর করেননি। অফিসে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন ওয়াসার কর্মকর্তা ( অর্থ ও প্রসাশন) ঝুমুর বালা বিশ্বাস, কিন্তু এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গত ১৬ এপ্রিল ওয়াসা ভবন থেকে মোটরসাইকেল যোগে খালিশপুর চরেরহাটের আঞ্চলিক অফিসে যাওয়ার সময় তাকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। ঔই দিন তিনি দাবি করেন, অফিসের একজন কর্মচারীর বদলীকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে। এঘটনায় তিনি ৫ জনকে আসামী করে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে চারজনই ওয়াসার কর্মচারী। মামলার আসামী ওয়াসার কর্মচারী ইমামুল ইসলাম, কাজী মো: ইলিয়াস হোসেন, সরদার সাইফুল ইসলাম ও শহিূুল্লাহ বাবু অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে জিএম আবদুল গফফার মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সুত্র জানায় বদলী পদোন্নতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সম্প্রতি টেন্ডার বানিজ্য জড়িয়েছে আবদুল গফফার। ছোটখাটো সরবরাহ কাজ পাইয়ে দিয়ে টাকা আদায় শুরু করেন। কাজ না দেওয়ায় বেশ কয়েকবার কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। দপ্তরে ঢুকে হেনস্থা করা এখন সাধারণ বিষয়ে পরিনত হয়েছে। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জিএম আবদুল গফফার বলেন, প্রতিপক্ষরা মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। ওয়াসার চারটি অফিস রয়েছে, সেসব অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখতে হয়। এজন্য মাঝে মাঝে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করতে পারিনা। এটা কোন বিষয় না। আজ দুপুরে না খেয়ে সচিব স্যারের সাথে কাজ করছি। আপনি এসে দেখে যেতে পারেন। কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়মিত অফিস না করা সম্পর্কে জানতে চাইলে, খুলনা ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সায়েদ মো: মঞ্জুরুল আলম বলেন, আমি তিনদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। এখোনোও অফিসে যাইনি। আজ বিকালে অফিসে গিয়ে বিষয় গুলো খোজ নেব। অফিসে কোন অনিয়ম হবার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখছি।






















