ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মিরাজ শেখের ১০ বছরের কারাদণ্ড ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা

রাজবাড়ীতে সরকারী টাকা আত্মসাৎ, ধরা পড়ে অর্ধেক টাকা ফেরত দিলেন, তদন্ত শেষে নেওয়া হবে ব্যবস্থা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫ ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ ওয়াজেদ আলী,  রাজবাড়ীঃ 

প্রবাদে আছে “অতি লোভে তাতী নষ্ট” আর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদে। উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর শিল্পী খাতুন এবং জীপ গাড়ী চালক মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে

চেক জালিয়াতি করে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

 

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক জানিয়েছেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আত্মসাৎ এর অর্ধেক টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে শিল্পী খাতুন দাবী করেন। তবে বাকি টাকা কবে নাগাদ ফেরত দিবেন তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করেননি শিল্পী খাতুন।

এদিকে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৬ জুলাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জারী করা অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, শিল্পী খাতুন ও মজিবর রহমান মোল্লা একে অপরের যোগসাজশে চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ বা প্রতারণা কার্যক্রম করে আসছেন। জুলাই মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাবের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে নোট, ফিল রেজিস্টার ও চেক স্বাক্ষর না করলেও শিল্পী খাতুন ও মজিবর রহমান মোল্লা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যাংক একাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন। তারা ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৫ টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

 

এ ব্যাপারে কেন তারা, উপজেলা পরিষদ কর্মচারী (চাকুরি) বিধিমালা, ২০১০ সপ্তম অধ্যায়ের ধারা ৩৩ এর চ) অনুসারে চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ বা প্রতারণার দায়ে দোষী হবেন না এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে ধারা ৩৪ (আ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড প্রদান করা হবে না তার বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশে বলা হয়েছে। এছাড়া আত্মসাৎকৃত সমুদয় অর্থ আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের বেতনভাতা শিরোনামে চলতি হিসাব নম্বরে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জিপগাড়ি চালক মজিবর রহমান মোল্লা বলেন, আমার বেতনের একাউন্টে ৫ দফায় মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ টাকা এসেছে। আমার একাউন্টে টাকা আসার পর শিল্পী খাতুন আমাকে টাকাগুলো উত্তোলন করে তাকে দিতে বলে। আমিও তাকে টাকাগুলো দিয়ে দেই। গত ১৩ জুলাই ইউএনও স্যার আমাকে ডেকে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আমি স্যারকে বলি আমার একাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, আমি টাকা তুলে শিল্পীকে দিয়েছি। তখন ইউএনও স্যার শিল্পীকে ডাকলে শিল্পী স্যারের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলে যে তার ভুল হয়েছে। স্যারের পা ধরে সে মাফও চায়।

 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সদর উপজেলা পরিষদে শিল্পীর অফিস কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে শিল্পীর বাসায় গেলে তার স্বামী জানান, তিনি খুব অসুস্থ, কথা বলতে পারবেন না। একপর্যায়ে শিল্পী সাংবাদিকদের তার কক্ষে ডেকে কান্নাকাটি করতে করতে বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ, কথা বলতে পারছি না। জিপগাড়ী চালক মজিবরের বুদ্ধিতে আমি ভুল করেছি। এখন ভুল স্বীকার করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে আমি ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ইউএনও স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের বেতনভাতা শিরোনামে চলতি হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে দিয়েছি।

 

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক বলেন, এই অর্থবছরের শেষের দিকে আমি অফিসের কিছু কাগজপত্রে বিচ্যুতি লক্ষ্য করি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে যে বা যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত শেষে আপনাদেরও জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজবাড়ীতে সরকারী টাকা আত্মসাৎ, ধরা পড়ে অর্ধেক টাকা ফেরত দিলেন, তদন্ত শেষে নেওয়া হবে ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 

 

মোঃ ওয়াজেদ আলী,  রাজবাড়ীঃ 

প্রবাদে আছে “অতি লোভে তাতী নষ্ট” আর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদে। উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর শিল্পী খাতুন এবং জীপ গাড়ী চালক মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে

চেক জালিয়াতি করে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

 

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক জানিয়েছেন তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আত্মসাৎ এর অর্ধেক টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে শিল্পী খাতুন দাবী করেন। তবে বাকি টাকা কবে নাগাদ ফেরত দিবেন তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করেননি শিল্পী খাতুন।

এদিকে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৬ জুলাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জারী করা অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, শিল্পী খাতুন ও মজিবর রহমান মোল্লা একে অপরের যোগসাজশে চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ বা প্রতারণা কার্যক্রম করে আসছেন। জুলাই মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাবের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে নোট, ফিল রেজিস্টার ও চেক স্বাক্ষর না করলেও শিল্পী খাতুন ও মজিবর রহমান মোল্লা চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যাংক একাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন। তারা ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৫ টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

 

এ ব্যাপারে কেন তারা, উপজেলা পরিষদ কর্মচারী (চাকুরি) বিধিমালা, ২০১০ সপ্তম অধ্যায়ের ধারা ৩৩ এর চ) অনুসারে চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ বা প্রতারণার দায়ে দোষী হবেন না এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে ধারা ৩৪ (আ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড প্রদান করা হবে না তার বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নোটিশে বলা হয়েছে। এছাড়া আত্মসাৎকৃত সমুদয় অর্থ আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের বেতনভাতা শিরোনামে চলতি হিসাব নম্বরে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জিপগাড়ি চালক মজিবর রহমান মোল্লা বলেন, আমার বেতনের একাউন্টে ৫ দফায় মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ টাকা এসেছে। আমার একাউন্টে টাকা আসার পর শিল্পী খাতুন আমাকে টাকাগুলো উত্তোলন করে তাকে দিতে বলে। আমিও তাকে টাকাগুলো দিয়ে দেই। গত ১৩ জুলাই ইউএনও স্যার আমাকে ডেকে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আমি স্যারকে বলি আমার একাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, আমি টাকা তুলে শিল্পীকে দিয়েছি। তখন ইউএনও স্যার শিল্পীকে ডাকলে শিল্পী স্যারের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলে যে তার ভুল হয়েছে। স্যারের পা ধরে সে মাফও চায়।

 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সদর উপজেলা পরিষদে শিল্পীর অফিস কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে শিল্পীর বাসায় গেলে তার স্বামী জানান, তিনি খুব অসুস্থ, কথা বলতে পারবেন না। একপর্যায়ে শিল্পী সাংবাদিকদের তার কক্ষে ডেকে কান্নাকাটি করতে করতে বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ, কথা বলতে পারছি না। জিপগাড়ী চালক মজিবরের বুদ্ধিতে আমি ভুল করেছি। এখন ভুল স্বীকার করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে আমি ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ইউএনও স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের বেতনভাতা শিরোনামে চলতি হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে দিয়েছি।

 

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক বলেন, এই অর্থবছরের শেষের দিকে আমি অফিসের কিছু কাগজপত্রে বিচ্যুতি লক্ষ্য করি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে যে বা যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত শেষে আপনাদেরও জানানো হবে।