ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে হাসেম জুট ইন্ডাস্ট্রিজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কোটি টাকার ক্ষতি জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত, সমতাভিত্তিক উন্নয়নে জোর। ত্যাগ-সংগ্রামের স্বীকৃতি চান সাহিদা বেগম মধুখালীতে অবৈধ মাটি উত্তোলন: জনদুর্ভোগ চরমে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা। সালথায় গভীর রাতে খড়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, ক্ষয়ক্ষতি রামুতে গরু চুরির অভিযোগ, শালিসে স্বীকার করেও গা-ঢাকা অভিযুক্তরা। ফরিদপুর সদর থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাহিদা বেগম দুঃসময়ের ত্যাগী নেত্রী সাহিদা বেগম: সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি ফরিদপুরে রেললাইনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফরিদপুরে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে।

ভাদ্র মাসে তাল পিঠার উৎসব বাংলার ঘরে ঘরে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

সেক মোহাম্মদ আফজাল 

ব্যুরো চীফ

 

চলছে ভাদ্র মাস তারপর ভ্যাপসা গরম গ্রামের মাঠে ঘাটে তাল গাছে তাল পাকা শুরু হয়েছে তাল দিয়ে পাড়া গায়ের গৃহবধূ সহ নানান বয়সের মহিলারা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা পুলি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

তাল বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত একটি ফলের নাম। ভাদ্র মাস এলেই সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে  বিভিন্ন মানুষের  ঘরে ঘরে তালের পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। সাধারণত গ্রামের দিকে তালের পিঠা বানানোর প্রচলন বেশি দেখা যায়৷ এই সময় পাকা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম পিঠা পুলি ও পায়েস তৈরি হয়।

গ্রাম অঞ্চলে এই পিঠা বেশি তৈরি হলেও শহর এবং গ্রামে প্রায় সবার কাছেই এটি খুব প্রিয় খাবার।

 

জানা যায়, বাংলা সাহিত্যে তাল নিয়ে অসংখ্য কবিতা, ছড়া ও গান রচিত হয়েছে।  ভাদ্র-আশ্বিন  মাস যেন বাঙালী জীবনের পাকা তাল ও তাল পিঠার মাস। ফরিদপুর জেলার  উপজেলার বিভিন্ন তাল গাছে গাছে এখন পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধ মুখরিত করছে চারদিক। আর বাড়ীতে বাড়ীতে চলছে তাল পিঠা তৈরীর উৎসব। চলছে জামাই ও আত্মীয় স্বজন আপ্যায়ন। খাদ্য রসিক বাঙালি রসনা বিলাসের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন এ দু’মাসেই তাল রসে তৈরি পিঠাসহ মুখরোচক নানা খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। যাদের তালগাছ রয়েছে, তারা ঘুম থেকে জেগে ভোরেই তালগাছ তলা থেকে তাল কুড়িয়ে নিয়ে আসে। আর যাদের তালগাছ নেই, তারা হাট-বাজার থেকে তাল কিনে এনে বিভিন্ন  পক্রিয়ায় তাল চিপে রস বের করে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে গুড়, চিনি, দুধ ও গরম মশলা দিয়ে পাতিলে তুলে জ্বাল করে নেয়। এরপর সুস্বাদু তাল পিঠা, তাল বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে।

 

তালের ২টি জাত রয়েছে, মহিষা তাল ও দুধা তাল। মহিষা তাল দেখতে কালো- আকারে বড়, আর দুধা তাল দেখতে লালটে আকারে- একটু ছোট।

ভাদ্র-আশ্বিন- এ দুই মাসেই তালের  তৈরি পিঠাসহ মুখরোচক নানা খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। খুব ধৈর্য নিয়ে নারীরা তালের আঁশ থেকে নির্যাস বের করে তৈরি করছেন তালের বিভিন্ন  পিঠা,তাল বড়া,কলার পাতা পুড়িয়ে তাল পিঠা , তালরুটি, তালের পায়েসসহ বিভিন্ন  রকমের পিঠাপুলি ইত্যাদি। একসময় ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার  প্রত্যন্ত জনপদে প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তালগাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এককালে এ সময়ে গ্রামের প্রতিটা ঘরে ঘরে তাল পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যেত। সারারাত ধরে পিঠা তৈরি করে সকালে তা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলানো হতো সেই পিঠা। সবাই আনন্দ সহ কারে  সে পিঠা খেত । বর্তমানে মানুষের বাড়হ তাল পিঠা তৈরির দৃশ্য চোখে  খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত সুস্বাদু এসব তাল পিঠা ও সেই সাথে এর ঐতিহ্যও। গাছতলায় গিয়ে দলবেঁধে তাল কুড়ানো, সেই তালের রস নিয়ে পিঠা বানানো, তৈরি পিঠা নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিলানোর চিত্র এখন যেন স্মৃতির পাতায় বন্দি হতে চলেছে।

নগরকান্দা উপজেলার “আনিসা মুসকান” নামে এক গৃহবধূ জানান, আমার তাল দিয়ে তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি করে খেতে খুব মজা লাগে। তাই প্রতিবছর ভাদ্র মাসে  আমি তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি পরিবারের সবাই মিলে খাই।তিনি আরো বলেন  গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে তাল খুব প্রিয় খাবার। তাই এখন গ্রামগঞ্জে তাল পিঠা, তাল বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকম খাবার ্তৈরি করে খাওয়ার ধুম পড়েছে আমাদের এলাকায় । ফরিদপুর সদর উপজেলার নমিতা সরকার নামে  আর এক গৃহবধূ  বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের বাড়িতে  তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি করি। খেতে দারুণ লাগে, তাই এ মৌসুমে তালের তৈরি পিঠা না হলে আমাদের অপূর্ণতা থেকে যাবে।তাই তালের তৈরি পিঠা করছি সবাই মিলে একসাথে মজা করে খাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভাদ্র মাসে তাল পিঠার উৎসব বাংলার ঘরে ঘরে

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

সেক মোহাম্মদ আফজাল 

ব্যুরো চীফ

 

চলছে ভাদ্র মাস তারপর ভ্যাপসা গরম গ্রামের মাঠে ঘাটে তাল গাছে তাল পাকা শুরু হয়েছে তাল দিয়ে পাড়া গায়ের গৃহবধূ সহ নানান বয়সের মহিলারা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা পুলি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

তাল বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত একটি ফলের নাম। ভাদ্র মাস এলেই সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে  বিভিন্ন মানুষের  ঘরে ঘরে তালের পিঠা বানানোর উৎসব শুরু হয়। সাধারণত গ্রামের দিকে তালের পিঠা বানানোর প্রচলন বেশি দেখা যায়৷ এই সময় পাকা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম পিঠা পুলি ও পায়েস তৈরি হয়।

গ্রাম অঞ্চলে এই পিঠা বেশি তৈরি হলেও শহর এবং গ্রামে প্রায় সবার কাছেই এটি খুব প্রিয় খাবার।

 

জানা যায়, বাংলা সাহিত্যে তাল নিয়ে অসংখ্য কবিতা, ছড়া ও গান রচিত হয়েছে।  ভাদ্র-আশ্বিন  মাস যেন বাঙালী জীবনের পাকা তাল ও তাল পিঠার মাস। ফরিদপুর জেলার  উপজেলার বিভিন্ন তাল গাছে গাছে এখন পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধ মুখরিত করছে চারদিক। আর বাড়ীতে বাড়ীতে চলছে তাল পিঠা তৈরীর উৎসব। চলছে জামাই ও আত্মীয় স্বজন আপ্যায়ন। খাদ্য রসিক বাঙালি রসনা বিলাসের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন এ দু’মাসেই তাল রসে তৈরি পিঠাসহ মুখরোচক নানা খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন। যাদের তালগাছ রয়েছে, তারা ঘুম থেকে জেগে ভোরেই তালগাছ তলা থেকে তাল কুড়িয়ে নিয়ে আসে। আর যাদের তালগাছ নেই, তারা হাট-বাজার থেকে তাল কিনে এনে বিভিন্ন  পক্রিয়ায় তাল চিপে রস বের করে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে গুড়, চিনি, দুধ ও গরম মশলা দিয়ে পাতিলে তুলে জ্বাল করে নেয়। এরপর সুস্বাদু তাল পিঠা, তাল বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকমের খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে।

 

তালের ২টি জাত রয়েছে, মহিষা তাল ও দুধা তাল। মহিষা তাল দেখতে কালো- আকারে বড়, আর দুধা তাল দেখতে লালটে আকারে- একটু ছোট।

ভাদ্র-আশ্বিন- এ দুই মাসেই তালের  তৈরি পিঠাসহ মুখরোচক নানা খাদ্য আয়োজনে ব্যস্ত থাকেন নারীরা। খুব ধৈর্য নিয়ে নারীরা তালের আঁশ থেকে নির্যাস বের করে তৈরি করছেন তালের বিভিন্ন  পিঠা,তাল বড়া,কলার পাতা পুড়িয়ে তাল পিঠা , তালরুটি, তালের পায়েসসহ বিভিন্ন  রকমের পিঠাপুলি ইত্যাদি। একসময় ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার  প্রত্যন্ত জনপদে প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তালগাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এককালে এ সময়ে গ্রামের প্রতিটা ঘরে ঘরে তাল পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যেত। সারারাত ধরে পিঠা তৈরি করে সকালে তা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলানো হতো সেই পিঠা। সবাই আনন্দ সহ কারে  সে পিঠা খেত । বর্তমানে মানুষের বাড়হ তাল পিঠা তৈরির দৃশ্য চোখে  খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত সুস্বাদু এসব তাল পিঠা ও সেই সাথে এর ঐতিহ্যও। গাছতলায় গিয়ে দলবেঁধে তাল কুড়ানো, সেই তালের রস নিয়ে পিঠা বানানো, তৈরি পিঠা নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিলানোর চিত্র এখন যেন স্মৃতির পাতায় বন্দি হতে চলেছে।

নগরকান্দা উপজেলার “আনিসা মুসকান” নামে এক গৃহবধূ জানান, আমার তাল দিয়ে তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি করে খেতে খুব মজা লাগে। তাই প্রতিবছর ভাদ্র মাসে  আমি তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি পরিবারের সবাই মিলে খাই।তিনি আরো বলেন  গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে তাল খুব প্রিয় খাবার। তাই এখন গ্রামগঞ্জে তাল পিঠা, তাল বড়া ও তালের পায়েসসহ নানা রকম খাবার ্তৈরি করে খাওয়ার ধুম পড়েছে আমাদের এলাকায় । ফরিদপুর সদর উপজেলার নমিতা সরকার নামে  আর এক গৃহবধূ  বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের বাড়িতে  তাল পিঠা ও তাল বড়া তৈরি করি। খেতে দারুণ লাগে, তাই এ মৌসুমে তালের তৈরি পিঠা না হলে আমাদের অপূর্ণতা থেকে যাবে।তাই তালের তৈরি পিঠা করছি সবাই মিলে একসাথে মজা করে খাব।