ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে হাসেম জুট ইন্ডাস্ট্রিজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কোটি টাকার ক্ষতি জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত, সমতাভিত্তিক উন্নয়নে জোর। ত্যাগ-সংগ্রামের স্বীকৃতি চান সাহিদা বেগম মধুখালীতে অবৈধ মাটি উত্তোলন: জনদুর্ভোগ চরমে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা। সালথায় গভীর রাতে খড়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, ক্ষয়ক্ষতি রামুতে গরু চুরির অভিযোগ, শালিসে স্বীকার করেও গা-ঢাকা অভিযুক্তরা। ফরিদপুর সদর থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাহিদা বেগম দুঃসময়ের ত্যাগী নেত্রী সাহিদা বেগম: সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি ফরিদপুরে রেললাইনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফরিদপুরে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে।

ফরিদপুরে যমুনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মিনারা বেগম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম-বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর

ফরিদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত যমুনা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দালালের প্রতারণার কারণে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন মিনারা বেগম (৩৫)। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির দালাল চক্রের প্রভাবে তিনি একের পর এক ভুল অপারেশনের শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারা বেগম প্রথমে শারীরিক জটিলতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দালাল চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত নাসিমা আক্তার নামে এক নারী তার খোঁজ পান। নাসিমা নিজেকে হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিজ্ঞ ও “ডিএমসিসি ডিগ্রিধারী” দাবি করে মিনারাকে প্রলুব্ধ করেন এবং যমুনা ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হয় বলে নিয়ে আসে।

এরপরে শুরু হয় একের পর একেক নাটকিয় রক্তচোষা দালালী কৌশল, প্রথমে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে মিনারাকে যমুনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষার নামে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে জরায়ুর অপারেশন সম্পন্ন করে তাকে ছুটি দেওয়া হয়।

তবে বাড়ি ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পুনরায় যমুনা হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, তার পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছে এবং তা অপারেশন করা লাগবে। প্রথম অপারেশনের মাত্র ২২ দিন পর আবারও অপারেশন করানো হয় মিনারার। দ্বিতীয় অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে যমুনা হাসপাতাল তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।

বর্তমানে মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
দালাল চক্রের স্বীকারোক্তি ও হাসপাতালের অসঙ্গতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিমা আক্তার জানান, তিনি ডাক্তার শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সাথে সাত বছর ধরে ব্যক্তিগত সহকারী এবং “প্রতিটি ওটি ভিত্তিক”৩০০ টাকা করে পান। নাসিমা বলেন তিনি রোগীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। অপরদিকে, যমুনা হাসপাতালের পরিচালক হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “নাসিমা আমাদের কাছে দশ হাজার পাঁচশত টাকা জমা দিয়েছে,” তবে দালাল চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নাসিমা আরও দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এলএলবি শিক্ষার্থী এবং “বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সাথে যুক্ত”রয়েছেন। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে গেলে তিনি নিজেই জানান, “আমি আনুমানিক ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করেছি,”—যা তার পেশাগত দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।

ভুক্তভোগী মিনারার স্বামী আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রথমে ২০ হাজার টাকা কন্টাক্টে চিকিৎসা শুরু হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন অপারেশন, ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ মিলিয়ে যমুনা হাসপাতালে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দালাল চক্রের জন্যই আজ স্ত্রী মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

আশরাফ উদ্দিন বলেন ভুল অপারেশন করে খাদ্যনালী কিছুটা ছিদ্র হয়েছে বলে জানান। এসময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে দালাল নাসিমা আক্তার, ডাক্তার শ্যামল কুমার বিশ্বাস এবং যমুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তারা বলেন, “ফরিদপুরসহ সারাদেশে এ ধরনের দালাল ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। বর্তমানে মিনারা বেগম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। প্রকাশ থাকে যে, দালাল নাসিমা কে তার শিক্ষাগত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রেগে যান এবং এক পর্যায়ে মানহানি মামলা করবেন বলে তার পরিচিত কোন এক এসআইকে ফোন দেন, এখন প্রশ্ন এই ভয়ংকর দালাল নাসিমার খুঁটির এতো জোর কোথায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে যমুনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মিনারা বেগম

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

 

রেজাউল করিম-বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর

ফরিদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় অবস্থিত যমুনা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দালালের প্রতারণার কারণে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন মিনারা বেগম (৩৫)। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির দালাল চক্রের প্রভাবে তিনি একের পর এক ভুল অপারেশনের শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনারা বেগম প্রথমে শারীরিক জটিলতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দালাল চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত নাসিমা আক্তার নামে এক নারী তার খোঁজ পান। নাসিমা নিজেকে হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিজ্ঞ ও “ডিএমসিসি ডিগ্রিধারী” দাবি করে মিনারাকে প্রলুব্ধ করেন এবং যমুনা ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হয় বলে নিয়ে আসে।

এরপরে শুরু হয় একের পর একেক নাটকিয় রক্তচোষা দালালী কৌশল, প্রথমে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে মিনারাকে যমুনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষার নামে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা নেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে জরায়ুর অপারেশন সম্পন্ন করে তাকে ছুটি দেওয়া হয়।

তবে বাড়ি ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পুনরায় যমুনা হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, তার পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছে এবং তা অপারেশন করা লাগবে। প্রথম অপারেশনের মাত্র ২২ দিন পর আবারও অপারেশন করানো হয় মিনারার। দ্বিতীয় অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে যমুনা হাসপাতাল তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।

বর্তমানে মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
দালাল চক্রের স্বীকারোক্তি ও হাসপাতালের অসঙ্গতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিমা আক্তার জানান, তিনি ডাক্তার শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সাথে সাত বছর ধরে ব্যক্তিগত সহকারী এবং “প্রতিটি ওটি ভিত্তিক”৩০০ টাকা করে পান। নাসিমা বলেন তিনি রোগীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং এর মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। অপরদিকে, যমুনা হাসপাতালের পরিচালক হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “নাসিমা আমাদের কাছে দশ হাজার পাঁচশত টাকা জমা দিয়েছে,” তবে দালাল চক্রের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নাসিমা আরও দাবি করেন, তিনি বর্তমানে এলএলবি শিক্ষার্থী এবং “বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সাথে যুক্ত”রয়েছেন। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে গেলে তিনি নিজেই জানান, “আমি আনুমানিক ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করেছি,”—যা তার পেশাগত দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।

ভুক্তভোগী মিনারার স্বামী আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রথমে ২০ হাজার টাকা কন্টাক্টে চিকিৎসা শুরু হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন অপারেশন, ওষুধ ও পরীক্ষার খরচ মিলিয়ে যমুনা হাসপাতালে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই হাসপাতালের ভুল চিকিৎসা ও দালাল চক্রের জন্যই আজ স্ত্রী মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

আশরাফ উদ্দিন বলেন ভুল অপারেশন করে খাদ্যনালী কিছুটা ছিদ্র হয়েছে বলে জানান। এসময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের কাছে দালাল নাসিমা আক্তার, ডাক্তার শ্যামল কুমার বিশ্বাস এবং যমুনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তারা বলেন, “ফরিদপুরসহ সারাদেশে এ ধরনের দালাল ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। বর্তমানে মিনারা বেগম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। প্রকাশ থাকে যে, দালাল নাসিমা কে তার শিক্ষাগত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রেগে যান এবং এক পর্যায়ে মানহানি মামলা করবেন বলে তার পরিচিত কোন এক এসআইকে ফোন দেন, এখন প্রশ্ন এই ভয়ংকর দালাল নাসিমার খুঁটির এতো জোর কোথায়।