ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা রোগী হয়রানি বন্ধ, দালালমুক্ত পরিবেশ ও জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর পত্নীতলায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা শিবচরে চার বছর বিদ্যুৎহীন উম্মে হানি, মোমবাতির আলোয় চলছে পড়াশোনা ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি নওগাঁ জেলার পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি উদ্ধার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব শেখের ঘোষণা

ফরিদপুর: সাবেক এলজিইডি মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদের ৫.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৪৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:

র্স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দক মোশারফ হোসেনের (এমপি) সাবেক এপিএস এএইচ এম ফুয়াদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। তাঁর প্রায় ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৬ টাকা মূল্যমানের সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।

 

সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্রোককৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাটসহ ৩৮.৯৩৩ শতাংশ জমি।

 

সিআইডি জানিয়েছে, মন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন এএইচ এম ফুয়াদ ফরিদপুরে ‘হেলমেট বাহিনী’ নামের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

 

হেলমেট বাহিনী: ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল-এর নেতৃত্বে ফুয়াদ এই বাহিনী তৈরি করেন।

 

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: এই বাহিনীর সাহায্যে তিনি এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী, শিক্ষা অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ, বিএডিসি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, রোডস এন্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডারগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন।

 

কমিশন ও চাঁদাবাজি: এসব টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করতেন ফুয়াদ।

 

অনুসন্ধানে সিআইডি তাঁর নিজের নামে ছাড়াও বহু আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি কেনার তথ্য পেয়েছে:

 

আত্মীয়দের নামে সম্পত্তি: ফুয়াদ তাঁর প্রথম স্ত্রী ফারজানা ফোয়াদ, দ্বিতীয় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাবলী, এবং দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ী নাদিরা বেগম-এর নামে-বেনামে বহু জায়গা-জমি ক্রয় করেছেন।

 

অন্যান্য বিনিয়োগ: তাঁর ভাই ও ভাগিনাদের হাতে এসব সম্পত্তির দখলদারিত্ব ন্যস্ত আছে। এমনকি বেনামে বিলাসবহুল বাস কিনে পরিবহনখাতেও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মামলা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই ঘটনায় অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালীথানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী/২০১৫) এর অধীনে একটি মামলা (মামলা নং- ১৩) রুজু করে।

 

তদন্ত: বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি’র ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে।

 

অভিযান: সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে তাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর: সাবেক এলজিইডি মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদের ৫.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

আপডেট সময় : ০৭:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

 

পার্থ প্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:

র্স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দক মোশারফ হোসেনের (এমপি) সাবেক এপিএস এএইচ এম ফুয়াদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। তাঁর প্রায় ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৬ টাকা মূল্যমানের সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।

 

সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ক্রোককৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাটসহ ৩৮.৯৩৩ শতাংশ জমি।

 

সিআইডি জানিয়েছে, মন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন এএইচ এম ফুয়াদ ফরিদপুরে ‘হেলমেট বাহিনী’ নামের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

 

হেলমেট বাহিনী: ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল-এর নেতৃত্বে ফুয়াদ এই বাহিনী তৈরি করেন।

 

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: এই বাহিনীর সাহায্যে তিনি এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী, শিক্ষা অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ, বিএডিসি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, রোডস এন্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডারগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন।

 

কমিশন ও চাঁদাবাজি: এসব টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করতেন ফুয়াদ।

 

অনুসন্ধানে সিআইডি তাঁর নিজের নামে ছাড়াও বহু আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি কেনার তথ্য পেয়েছে:

 

আত্মীয়দের নামে সম্পত্তি: ফুয়াদ তাঁর প্রথম স্ত্রী ফারজানা ফোয়াদ, দ্বিতীয় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাবলী, এবং দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ী নাদিরা বেগম-এর নামে-বেনামে বহু জায়গা-জমি ক্রয় করেছেন।

 

অন্যান্য বিনিয়োগ: তাঁর ভাই ও ভাগিনাদের হাতে এসব সম্পত্তির দখলদারিত্ব ন্যস্ত আছে। এমনকি বেনামে বিলাসবহুল বাস কিনে পরিবহনখাতেও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মামলা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই ঘটনায় অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালীথানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী/২০১৫) এর অধীনে একটি মামলা (মামলা নং- ১৩) রুজু করে।

 

তদন্ত: বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি’র ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে।

 

অভিযান: সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে তাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।