ফরিদপুর-৩ আসনের নির্বাচনী হালচাল-জনসংযোগ, আবেগ ও সংগঠনের শক্তিতে আলোচনায় বিএনপি প্রার্থী নায়াব ইউসুফ
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম- ফরিদপুর প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনী তফসিল ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ কার্যক্রমে সদর উপজেলা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিদিনই নতুন নতুন সমীকরণে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সদর আসনের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও নির্বাচনী সভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন। ধানের শীষ প্রতীক সামনে রেখে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, শুনছেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা এবং এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে গ্রহণ করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, একজন প্রার্থী যখন মানুষের কথা শোনার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন, তখন তার প্রতি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থা তৈরি হয়—নায়াব ইউসুফ সেই জায়গাটি ধরতে পেরেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় নায়াব ইউসুফের আচরণ ও ভাষা অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় অহংকারহীন ও সহজ-সরল ভঙ্গি তার প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলে জানান অনেক ভোটার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুরের রাজনীতিতে মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করা এই নেতা সদরবাসীর হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার সন্তান হিসেবে চৌধুরী নায়াব ইউসুফের প্রতি একটি আবেগী গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক প্রবীণ ভোটার মনে করেন, প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ মানুষের জন্য যে রাজনীতি করে গেছেন, সেই আদর্শ ও দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতাই নায়াব ইউসুফ বহন করছেন।
এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার সুবাদে নায়াব ইউসুফ সদর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরিচিত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ কারণেই অনেকেই তাকে একজন সম্ভাবনাময় ও জনবান্ধব নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনী মাঠে শুধু প্রার্থীই নয়, তার পেছনের সংগঠনী শক্তিও বড় ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে নায়াব ইউসুফের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের ভূমিকা নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, মো. সিদ্দিকুর রহমান একজন পরিশ্রমী ও সাংগঠনিক দক্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক সভা সমন্বয় করছেন এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে কৃষক দলসহ বিভিন্ন ইউনিট নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।
কৃষক সমাজের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় মো. সিদ্দিকুর রহমান তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন বলে মত স্থানীয়দের। অনেক কৃষকই মনে করেন, তাদের কথা বলার মতো একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাঠে সক্রিয় থাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাড়তি শক্তি যোগ হচ্ছে।
সদর আসনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিযোগিতাই নয়, বরং জনসম্পৃক্ততা, গ্রহণযোগ্যতা ও সংগঠনের সক্ষমতার একটি পরীক্ষা। এই তিনটি ক্ষেত্রেই বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ধীরে ধীরে নিজেকে দৃশ্যমান করে তুলছেন।
সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। তবে প্রচারণার ধরন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সংগঠনী তৎপরতার দিক থেকে সদর আসনে নায়াব ইউসুফ একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব, কিন্তু বর্তমান নির্বাচনী হালচালে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ যে একটি আলোচিত নাম—তা বলাই যায়।




















