ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফরিদপুরে বিএসটিআই’র সমন্বিত মোবাইল কোর্টে ৮ মামলায় জরিমানা ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত পণ্য বাজারজাতকরণে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমন্বিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৮টি মামলায় মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সোমবার (১২ মে ২০২৬) ফরিদপুর সদর উপজেলায় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আঞ্চলিক কার্যালয় ফরিদপুর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত “টাস্কফোর্স” এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কাঠপট্টি এলাকার “ওয়াটার প্লাস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটারের পণ্যে বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে বিক্রি ও বিতরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিএসটিআই আইন-২০১৮ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া চকবাজার এলাকার “মেসার্স আয়নাল স্টোর” ও “মেসার্স গোপাল ট্রেডিং” নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ওজনযন্ত্রের ভেরিফিকেশন সনদ না থাকায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানের সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা নেওয়া হয় সদর উপজেলার হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের “রূপালী ফিস” নামের একটি মাছের আড়তে। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকা, কোল্ড স্টোরেজে নিম্নমানের ও পচনশীল মাছ সংরক্ষণ, যথাযথ লেবেল ও চিহ্ন ছাড়া মাছ মজুদ রাখা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ ও চালান সংরক্ষণ না করায় নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে জনতার মোড় এলাকার “মোহাম্মাদীয়া রেঁস্তোরা”য় হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার নিবন্ধন সনদ না থাকায় বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন-২০১৪ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই এলাকায় “সান মুন বিরিয়ানি হাউস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং খাবারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেওড়া জল ব্যবহার করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া “ইমাম সু স্টোর” নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে জুতার কার্টন রাখায় দণ্ডবিধি-১৮৬০ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চকবাজার এলাকার “রাম কৃষ্ণ ভাণ্ডার” নামের প্রতিষ্ঠানে চাল পরিবহনের ক্ষেত্রে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় সদর উপজেলার নিউমার্কেট ফলপট্টির বিভিন্ন দোকানে অপরিপক্ক ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো আম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং দ্রুত সেসব আম বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দেব কুমার পাল এবং পার্থ প্রতীম মন্ডল। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক (মেট) মোঃ খালিদ হাসান এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে ভেজাল, নিম্নমানের খাদ্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে বিএসটিআই’র সমন্বিত মোবাইল কোর্টে ৮ মামলায় জরিমানা ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 

 

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত পণ্য বাজারজাতকরণে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সমন্বিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৮টি মামলায় মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সোমবার (১২ মে ২০২৬) ফরিদপুর সদর উপজেলায় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আঞ্চলিক কার্যালয় ফরিদপুর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত “টাস্কফোর্স” এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কাঠপট্টি এলাকার “ওয়াটার প্লাস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটারের পণ্যে বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে বিক্রি ও বিতরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিএসটিআই আইন-২০১৮ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া চকবাজার এলাকার “মেসার্স আয়নাল স্টোর” ও “মেসার্স গোপাল ট্রেডিং” নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ওজনযন্ত্রের ভেরিফিকেশন সনদ না থাকায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানের সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা নেওয়া হয় সদর উপজেলার হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের “রূপালী ফিস” নামের একটি মাছের আড়তে। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকা, কোল্ড স্টোরেজে নিম্নমানের ও পচনশীল মাছ সংরক্ষণ, যথাযথ লেবেল ও চিহ্ন ছাড়া মাছ মজুদ রাখা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ ও চালান সংরক্ষণ না করায় নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে জনতার মোড় এলাকার “মোহাম্মাদীয়া রেঁস্তোরা”য় হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার নিবন্ধন সনদ না থাকায় বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন-২০১৪ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই এলাকায় “সান মুন বিরিয়ানি হাউস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং খাবারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেওড়া জল ব্যবহার করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া “ইমাম সু স্টোর” নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে জুতার কার্টন রাখায় দণ্ডবিধি-১৮৬০ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চকবাজার এলাকার “রাম কৃষ্ণ ভাণ্ডার” নামের প্রতিষ্ঠানে চাল পরিবহনের ক্ষেত্রে পাটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় সদর উপজেলার নিউমার্কেট ফলপট্টির বিভিন্ন দোকানে অপরিপক্ক ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো আম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং দ্রুত সেসব আম বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দেব কুমার পাল এবং পার্থ প্রতীম মন্ডল। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক (মেট) মোঃ খালিদ হাসান এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে ভেজাল, নিম্নমানের খাদ্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।