নগরকান্দায় অপহরণের ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার সাংবাদিক টিটুল মোল্লা, হাসপাতালে ভর্তি
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক ফরিদপুর মহানগর বার্তা
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় অপহরণের শিকার হওয়া সাংবাদিক টিটুল মোল্লা (৩৮)কে ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক টিটুল মোল্লা ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ২ নম্বর সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ফরহাদ মোল্লার ছেলে। গত শনিবার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের মাশাউজান এলাকায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, টিটুল মোল্লাকে অপহরণের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ঘোপঘাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল গাজী (৩৯) এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে এসআই নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে টিটুল মোল্লাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের পর তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরে নির্যাতনের কিছু আলামত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্যাতনের প্রকৃতি ও মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ মাঠে নামে। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, “অপহরণের পেছনে কী কারণ ছিল, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নগরকান্দাসহ জেলার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সমাজও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত শেষ হলে অপহরণের প্রকৃত কারণ, ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনা এবং জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এদিকে টিটুল মোল্লার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


















