ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০ বছরের সরকারি চাকরি, যেনো আলাদিনের চাকরি ৪ কোটি টাকার বাড়ি: গণপূর্তের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন  কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সকল শিক্ষার্থী  নোটিশের পর আজ বিকেল ৩টায় ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান। কিছু মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পরই তাদের মূল্য বোঝা যায় পত্নীতলায় চোলাইমদসহ নারী আটক পত্নীতলায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত ফরিদপুর পৌর সুপার মার্কেট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা সদরপুরে মোটরসাইকেল অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত  বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা

২০ বছরের সরকারি চাকরি, যেনো আলাদিনের চাকরি ৪ কোটি টাকার বাড়ি: গণপূর্তের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম, বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর

সরকারি চাকরিতে পদ উচ্চমান হিসাব সহকারী, বেতন স্কেল ১৪তম গ্রেড। প্রায় দুই দশকের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের ক্যাশিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি চারতলা বাড়ি, ফরিদপুর শহরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন স্থানে জমি রয়েছে তার। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন কাজের বিল ছাড় করাতে জাহাঙ্গীর আলমকে নির্ধারিত কমিশন দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিল পাসের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। এছাড়া প্রাক্কলন তৈরি, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঠিকাদারদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রেখে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকার কারণে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।

বৈধ আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ২০ বছর আগে ১০ হাজার ২০০ টাকা মূল বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। ওই সময়ের বেতন হিসাব করলে দুই দশকে তার মূল বেতন থেকে অর্জিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। অবশ্য চাকরিজীবনে বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের বিষয়ও রয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—বেতন-ভাতা ও ঘোষিত বৈধ আয়ের সঙ্গে তার দৃশ্যমান সম্পদের যে পার্থক্য, তার উৎস কী?

সরেজমিনে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের একটি দৃষ্টিনন্দন চারতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও দাবি করেন, কামারখালীর বিভিন্ন এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে। তবে এসব জমির প্রকৃত পরিমাণ ও মালিকানা যাচাই করতে স্থানীয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুর শহরেও রয়েছে ফ্ল্যাট

গ্রামের বাড়ির পাশাপাশি ফরিদপুর শহরেও জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

শহরের ডিআইবি বটতলা সংলগ্ন ১০ তলা ভবন ‘বর্ণমালা’র ৪ নম্বর ভবনের চারতলায় ৫-এর ‘সি’ ইউনিটে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

ভবনের দারোয়ান কুদ্দুস শেখ জানান, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার জাহাঙ্গীরের

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘুষ, কমিশন ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার সম্পদ বৈধ উপার্জনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে।

বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, নির্মাণকাজের সময় ব্যাংক থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়া বড় বোনের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে সোনালী ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ এবং নিজের প্রায় ১০ লাখ টাকার সঞ্চয় ভেঙে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করেছেন।

তবে এসব ঋণ ও আর্থিক লেনদেনের সমর্থনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা নথিপত্র তিনি প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। পরে সংবাদটি প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিবেদককে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাবার সম্পদ দিয়ে এত বড় সম্পত্তি সম্ভব নয়: ইউপি চেয়ারম্যান

কামারখালী (১ নম্বর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী ইরান হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাবা ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তার জানা মতে, বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ এমন ছিল না, যার ওপর ভিত্তি করে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা সম্পত্তির সবগুলো তার নিজের উপার্জনে কেনা কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি নির্বাহী প্রকৌশলীর

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তার জানামতে সেগুলো সঠিক নয়।

তবে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কত কিংবা এসব সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস কী—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের দৃশ্যমান সম্পদ, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিক। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২০ বছরের সরকারি চাকরি, যেনো আলাদিনের চাকরি ৪ কোটি টাকার বাড়ি: গণপূর্তের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন 

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

রেজাউল করিম, বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর

সরকারি চাকরিতে পদ উচ্চমান হিসাব সহকারী, বেতন স্কেল ১৪তম গ্রেড। প্রায় দুই দশকের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের ক্যাশিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি চারতলা বাড়ি, ফরিদপুর শহরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন স্থানে জমি রয়েছে তার। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন কাজের বিল ছাড় করাতে জাহাঙ্গীর আলমকে নির্ধারিত কমিশন দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিল পাসের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। এছাড়া প্রাক্কলন তৈরি, ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঠিকাদারদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রেখে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকার কারণে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।

বৈধ আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ২০ বছর আগে ১০ হাজার ২০০ টাকা মূল বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। ওই সময়ের বেতন হিসাব করলে দুই দশকে তার মূল বেতন থেকে অর্জিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। অবশ্য চাকরিজীবনে বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের বিষয়ও রয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—বেতন-ভাতা ও ঘোষিত বৈধ আয়ের সঙ্গে তার দৃশ্যমান সম্পদের যে পার্থক্য, তার উৎস কী?

সরেজমিনে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের একটি দৃষ্টিনন্দন চারতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও দাবি করেন, কামারখালীর বিভিন্ন এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে। তবে এসব জমির প্রকৃত পরিমাণ ও মালিকানা যাচাই করতে স্থানীয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।

ফরিদপুর শহরেও রয়েছে ফ্ল্যাট

গ্রামের বাড়ির পাশাপাশি ফরিদপুর শহরেও জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

শহরের ডিআইবি বটতলা সংলগ্ন ১০ তলা ভবন ‘বর্ণমালা’র ৪ নম্বর ভবনের চারতলায় ৫-এর ‘সি’ ইউনিটে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

ভবনের দারোয়ান কুদ্দুস শেখ জানান, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার জাহাঙ্গীরের

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘুষ, কমিশন ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার সম্পদ বৈধ উপার্জনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে।

বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, নির্মাণকাজের সময় ব্যাংক থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়া বড় বোনের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে সোনালী ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ এবং নিজের প্রায় ১০ লাখ টাকার সঞ্চয় ভেঙে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করেছেন।

তবে এসব ঋণ ও আর্থিক লেনদেনের সমর্থনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা নথিপত্র তিনি প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। পরে সংবাদটি প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিবেদককে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাবার সম্পদ দিয়ে এত বড় সম্পত্তি সম্ভব নয়: ইউপি চেয়ারম্যান

কামারখালী (১ নম্বর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী ইরান হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাবা ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তার জানা মতে, বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ এমন ছিল না, যার ওপর ভিত্তি করে এত বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা সম্পত্তির সবগুলো তার নিজের উপার্জনে কেনা কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি নির্বাহী প্রকৌশলীর

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তার জানামতে সেগুলো সঠিক নয়।

তবে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কত কিংবা এসব সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস কী—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের দৃশ্যমান সম্পদ, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিক। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।