ফরিদপুরে ১১ বছর বয়সী নিভির মন্ডল গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।
ফরিদপুরের মস্তফা ডাঙ্গীতে রবিবার (২ নভেম্বর ২০২৫)ইং সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকার সময় নিভির মন্ডল (১১) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি স্থানীয়দের বরাতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিভিরের পিতা মুরাদ মন্ডল (৪৫) বলেন, আমার ছেলে নানার বাড়ি থেকে এসে এলাকার অন্য কিছু বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিল। খেলা শেষ করে বাসায় এসে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি জানতে পেয়েছি, নিভির তার নানীর কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল, নানি ভাত না দিয়ে বাড়ি যেতে বলায় এ রাগে সে এমন পথ বেছে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।
নিভিরের মা রুবিয়া আক্তার (৩৮) বলেন, ও আমার কলিজার টুকরা, ও কখনই হত্যার মতো জঘন্য কাজ করবে না। আমার স্বামীর সঙ্গে আমার বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা ছিল, তিনি বিদেশ থেকে ফেরার পর নানা অপদস্ত, গালাগালি ও হুমকি দিতেন আমাকে। ৭ বছর সংসার চালানোর জন্য তিনি আমাকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন এখন সেটা ফেরত দাবি করে আমাকে গালাগালি করতেন। নেশা-আসক্তির কারণে তিনি বাড়ি ফিরে আমার বড় মেয়েগুলোকে গালাগালি করতেন এবং মাঝে মাঝে বের করে দিতেন। এসবের পর আমি আমার বাবার বাড়িতে চলে এসেছি এবং থানায়ও অভিযোগ করেছি এরপর থেকেই নিভিরকে জোর করে ওর বাবা আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছিল তার বাড়িতে। নিভির যেতে না চাইলে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে নিয়ে গেছিল তার বাবা। আর তারপর থেকেই নিভির ওর বাবার কাছে থাকে ওখানে ওর চাচার বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ওকে নিজে রান্না করে খেতে হত। কেউ ওরে ডাকতো না খেতে। তিনি বলেন, আমার ছেলে নির্যাতনের শিকার হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছে। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার চাই।
নিভিরের নানি বলেন, আমার নাতি রবিবারে আমাদের বাড়ি আসে নাই, আমরা চাই সঠিক’ভাবে তদন্ত করে বিচার করা হোক।
নিভিরের মামা রুবেল ফকির দাবি করেন, আমার ভাগ্নে কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। এটা ওর বাবা মুরাদ মন্ডলের নির্যাতনেই ঘটেছে। যদি নিভির আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে এমন ঘটনা কখনোই হত’না। আমরা চাই সঠিক’ভাবে তদন্ত করে এর একটা বিচার হোক।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের বর্ণনায় আত্মহত্যা-নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এখনই পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য (ঋণী তদন্ত/প্রাথমিক রিপোর্ট) পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিচারের জন্য তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জোর দাবি করা হয়েছে।


























