ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর-৪ এ ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও স্বতন্ত্র ফুটবলের ত্রিমুখী লড়াই- জয়ের চাবিকাঠি আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শিমুল তালুকদার
সদরপুর, ফরিদপুর থেকেঃ

যতই দিন যাচ্ছে ঘনিয়ে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা। কিছু ভোটারদের মাঝে রয়েছে উদ্দেগ উৎকন্ঠা। তারপরও পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সমর্থকরা গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। মাঠে, ঘাটে, ময়দানে,
হাট বাজারে, চায়ের দোকানে একটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এবারে ফরিদপুর – ৪ ( সদরপুর – চরভদ্রাসন – ভাঙ্গা) আসনে কে পড়বেন বিজয়ের মালা। কিছু ভোটারদের মাঝে রয়েছে গভীর উদ্দ্বেগ ও উৎকন্ঠা। তারা ভাবছেন পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলে ঠিক ঠাক মত তার বাক্সে পড়বেতো? নাকি চলে যাবে অন্য বাক্সে। এরপরও থেমে নেই প্রচারণা। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন আদায়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিস্রুতি। সমর্থকেরা অন্য ভোটারদের নিজ দলে ভেড়াতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ ( ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে লড়াইটা এখন আর কোনো এক পক্ষের নেই। ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি, দাঁড়িপাল্লার সুশৃঙ্খল ভোট এবং ফুটবলের স্বতন্ত্র আবেদন সব মিলিয়ে ত্রিমুখী জমজমাট যুদ্ধের অপেক্ষায় এই সংসদীয় আসনটি । এ আসনে মোট ৮জন প্রার্থী লড়াই করলেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শহীদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা সরোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে স্থপতি মুজাহিদ বেগ এই তিনজন ছাড়া বাকি প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে তেমন আলোচনায় নেই। তবে প্রার্থীরা যে যার মত ভোটের মাঠে ভোটারদের মনোযোগ বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। তারা সবাই এখন এই আসনের ২,৫৪,৬৫৫ জন পুরুষ ও ২,৪২,০৫০ জন নারী সব মিলে মোট ৪,৯৬,৭০৬ জন ভোটারের মন জয়ের আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের মনির মিয়া জানান, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক তথা সাবেক সাংসদ নিক্সনের নিজস্ব বলয়ের ভোট ফলাফলের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। সদরপুর উপজেলার দশহাজার গ্রামের মসিউর খান জানান, নিরপেক্ষ ও নারী ভোটার জয় পরাজয় নিশ্চিত করবে। চরভদ্রাসন উপজেলার সদর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আলমামুন জানিয়েছেন, এ আসনে ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নতুন ভোটাররা বড় নিয়ামক। তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিবে।

দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিক, আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শহীদুল ইসলাম বাবুল ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা তৃণমূল বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং মিটিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের ছায়া তলে একত্র করে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকায় এই নির্বাচন তার জন্য এক ধরণের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক মোড় না থাকলে দলীয় ভোটব্যাংক তার বড় শক্তি। তিনি তরুণ ও নতুন ভোটার এবং নারী ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র স্থপতি মুজাহিদ বেগও ছেড়ে কথা বলছেন না। মুজাহিদ বেগ বর্তমানে এই আসনের সবচেয়ে বড় ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’। সদরপুর ও চরভদ্রাসনে তার ব্যক্তিগত একটা বড় ভোটব্যাংক আছে। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী ভোটব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা বাসযাত্রী । সেই হিসেবে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। বিশেষ করে যারা গতানুগতিক বড় দলগুলোর বাইরে বিকল্প খুঁজছেন, তারা ‘ফুটবল’ মার্কায় ঝুঁকতে পারেন।

ধীরস্থির, যুক্তি ও আদর্শের উপর দাঁড়ানো মাওলানা ছরোয়ার হোসেনের দাঁড়িপাল্লার ভোট এই নির্বাচনে এই আসনে ‘নির্ণায়ক’ হিসেবে কাজ করতে পারে। জামায়াতের ভোট খুব সুশৃঙ্খল। যদি ত্রিমুখী লড়াই হয় এবং ভোট ভাগ হয়ে যায়, তবে ছরোয়ার হোসেনের নিজস্ব সাইলেন্ট ভোটগুলো তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। জামায়াতের সমর্থকেরা মনে করেন নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি চরাঞ্চল, আওয়ামী ভোট, নারী ,তরুণ ও নতুন ভোট, হিন্দুদের কিছু ভোট মিলে তারা ভালো অবস্থান রয়েছে।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে, ভোটাররা মনে করছেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে ধানের শীষ, ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে, এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যদি কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয় তবে, পাল্টে যেতে পারে হিসেব নিকেশ। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয় আসে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিন ব্যালট বাক্সেই।

শিমুল তালুকদার
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০১৭১৯১০৩৬১৫
ছবির সংযুক্তঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর-৪ এ ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও স্বতন্ত্র ফুটবলের ত্রিমুখী লড়াই- জয়ের চাবিকাঠি আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক

আপডেট সময় : ০১:০৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

শিমুল তালুকদার
সদরপুর, ফরিদপুর থেকেঃ

যতই দিন যাচ্ছে ঘনিয়ে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা। কিছু ভোটারদের মাঝে রয়েছে উদ্দেগ উৎকন্ঠা। তারপরও পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সমর্থকরা গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। মাঠে, ঘাটে, ময়দানে,
হাট বাজারে, চায়ের দোকানে একটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এবারে ফরিদপুর – ৪ ( সদরপুর – চরভদ্রাসন – ভাঙ্গা) আসনে কে পড়বেন বিজয়ের মালা। কিছু ভোটারদের মাঝে রয়েছে গভীর উদ্দ্বেগ ও উৎকন্ঠা। তারা ভাবছেন পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলে ঠিক ঠাক মত তার বাক্সে পড়বেতো? নাকি চলে যাবে অন্য বাক্সে। এরপরও থেমে নেই প্রচারণা। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন আদায়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিস্রুতি। সমর্থকেরা অন্য ভোটারদের নিজ দলে ভেড়াতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ ( ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে লড়াইটা এখন আর কোনো এক পক্ষের নেই। ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি, দাঁড়িপাল্লার সুশৃঙ্খল ভোট এবং ফুটবলের স্বতন্ত্র আবেদন সব মিলিয়ে ত্রিমুখী জমজমাট যুদ্ধের অপেক্ষায় এই সংসদীয় আসনটি । এ আসনে মোট ৮জন প্রার্থী লড়াই করলেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে শহীদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা সরোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে স্থপতি মুজাহিদ বেগ এই তিনজন ছাড়া বাকি প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে তেমন আলোচনায় নেই। তবে প্রার্থীরা যে যার মত ভোটের মাঠে ভোটারদের মনোযোগ বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। তারা সবাই এখন এই আসনের ২,৫৪,৬৫৫ জন পুরুষ ও ২,৪২,০৫০ জন নারী সব মিলে মোট ৪,৯৬,৭০৬ জন ভোটারের মন জয়ের আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের মনির মিয়া জানান, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক তথা সাবেক সাংসদ নিক্সনের নিজস্ব বলয়ের ভোট ফলাফলের গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। সদরপুর উপজেলার দশহাজার গ্রামের মসিউর খান জানান, নিরপেক্ষ ও নারী ভোটার জয় পরাজয় নিশ্চিত করবে। চরভদ্রাসন উপজেলার সদর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আলমামুন জানিয়েছেন, এ আসনে ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নতুন ভোটাররা বড় নিয়ামক। তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিবে।

দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিক, আত্মবিশ্বাসী বিএনপির শহীদুল ইসলাম বাবুল ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা তৃণমূল বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং মিটিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের ছায়া তলে একত্র করে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকায় এই নির্বাচন তার জন্য এক ধরণের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। বিশেষ করে বড় কোনো রাজনৈতিক মোড় না থাকলে দলীয় ভোটব্যাংক তার বড় শক্তি। তিনি তরুণ ও নতুন ভোটার এবং নারী ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র স্থপতি মুজাহিদ বেগও ছেড়ে কথা বলছেন না। মুজাহিদ বেগ বর্তমানে এই আসনের সবচেয়ে বড় ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’। সদরপুর ও চরভদ্রাসনে তার ব্যক্তিগত একটা বড় ভোটব্যাংক আছে। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী ভোটব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা বাসযাত্রী । সেই হিসেবে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। বিশেষ করে যারা গতানুগতিক বড় দলগুলোর বাইরে বিকল্প খুঁজছেন, তারা ‘ফুটবল’ মার্কায় ঝুঁকতে পারেন।

ধীরস্থির, যুক্তি ও আদর্শের উপর দাঁড়ানো মাওলানা ছরোয়ার হোসেনের দাঁড়িপাল্লার ভোট এই নির্বাচনে এই আসনে ‘নির্ণায়ক’ হিসেবে কাজ করতে পারে। জামায়াতের ভোট খুব সুশৃঙ্খল। যদি ত্রিমুখী লড়াই হয় এবং ভোট ভাগ হয়ে যায়, তবে ছরোয়ার হোসেনের নিজস্ব সাইলেন্ট ভোটগুলো তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। জামায়াতের সমর্থকেরা মনে করেন নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি চরাঞ্চল, আওয়ামী ভোট, নারী ,তরুণ ও নতুন ভোট, হিন্দুদের কিছু ভোট মিলে তারা ভালো অবস্থান রয়েছে।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে, ভোটাররা মনে করছেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে ধানের শীষ, ফুটবল ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে, এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যদি কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয় তবে, পাল্টে যেতে পারে হিসেব নিকেশ। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয় আসে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের দিন ব্যালট বাক্সেই।

শিমুল তালুকদার
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০১৭১৯১০৩৬১৫
ছবির সংযুক্তঃ