ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্র্যাক সিডের উদ্যোগে ফরিদপুরে উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ব্র্যাক সিডের উদ্যোগে ফরিদপুরে উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মধুখালীতে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ধর্ষণ,অভিযুক্ত রিপন মল্লিক কে আটক করেছে পুলিশ  করবো কাজ, গড়বো দেশ — সবার আগে বাংলাদেশ নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৭ জন আটক -দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ফরিদপুরের সালথায় হামলার জেরে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ, আহত ২ জাতীয় পরিচয়পত্রে বাধ্যতামূলক মোবাইল নম্বর সংযুক্তির ব্যাপারে আমার কিছু কথা অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আমার আহ্বান নগরকান্দায় বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কাটলেন ছোট ভাই ফরিদপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত ফরিদপুরে বিএসটিআই’র সমন্বিত মোবাইল কোর্টে ৮ মামলায় জরিমানা ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা

সংবাদ প্রকাশের জেরে অপরাধ দামাচাপা দিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন? কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিদধি আমিন

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ২নং রত্নাপালং ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি সড়কের চারটি বড় আকারের শিশু গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, ২নং রত্নাপালং ইউনিয়নের ইসু আলী সড়কের পূর্ব–পশ্চিম অংশে রাস্তার দক্ষিণ পাশে আনোয়ার হোসেন (প্রকাশ আনারাম্মত) এর বাড়ির বাউন্ডারির সামনে থাকা চারটি বড় বড় শিশু গাছ গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ইং তারিখ আনুমানিক ১:১৯ মিনিটের দিকে প্রকাশ্যে কেটে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইসলামি আন্দোলনের উখিয়া উপজেলা সভাপতি ও মসজিদ ব্যবসায়ী হাফেজ কলিম উল্লাহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে গাছগুলো কাটেন এবং এ বিষয়ে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে এলাকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার ছড়ানো হয় হয়।

সড়কের গাছ কাটার অনুমতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম ও রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদার কাছ থেকে জানতে চাইলে, তিনজনই স্পষ্টভাবে জানান, উক্ত গাছ কাটার জন্য কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে রত্নাপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন মানববন্ধনে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে আব্বাস উদ্দিনের বক্তব্যে মিথ্যা বানুয়াট ভিত্তিহীন দাবি সাংঘর্ষিক হওয়ায় এলাকায় বিভ্রান্তি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর ৩১ জানুয়ারি ২৬ ইং তারিখে সাংবাদিক রাশেদের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বনবিভাগের তৎপরতা দেখে কলিম উল্লার দূর্নীতি ও অপরাধ দামাচাপা দিতে মানববন্ধন আয়োজন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মানববন্ধনে এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের অংশগ্রহণ করানো হয় এবং তাদের দিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মানহানিকর স্লোগান করানো হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা শিশু ছিল।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা মহলের ভাষ্য, কোনো বিতর্কিত ইস্যুতে শিশুদের ব্যবহার নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলিম উল্লাহ এতিমখানার নাম ব্যবহার করে ওসমান বিন আফ্ফান (র.) মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা শিশুদের কাটাতারের বাইরে এনে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা সরকারি নিষেধাজ্ঞার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মানহানির অভিযোগ এনে সাংবাদিক রাশেদ মসজিদ ব্যবসায়ী কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এইসব ষড়যন্ত্রে কয়েকজন কথিত দালালদের দৌরাত্ম ছিল চোখে পড়ার মতো।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমতি ছাড়া সরকারি সড়কের গাছ কাটা হলে তা বন আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হলে মামলা দায়ের ও জব্দকৃত কাঠের হেফাজত নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অথচ গাছ জব্দ করার কথা বললেও কোনো রকম ব্রিফিং দেওয়া হয়নি উল্টো নাটকীয় ভাবে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এখন নিরবতা পালন করছেন।

তবে এখনো পর্যন্ত মামলা দায়ের বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন? অনুমতি ছাড়া সরকারি সম্পদ কাটার অভিযোগে মামলা হয়নি কেন? জব্দকৃত কাঠ কোথায় রয়েছে? তদন্তের অগ্রগতি কী? প্রশাসনিক বিলম্বের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ আছে কি?

একজন গণমাধ্যমকর্মীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর প্রতিক্রিয়ায় মানববন্ধন ও পাল্টা প্রচারণা স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, গাছ কাটার বৈধতা যাচাই, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, শিশু ব্যবহারের অভিযোগের পৃথক তদন্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সংবাদ প্রকাশের জেরে অপরাধ দামাচাপা দিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন? কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিদধি আমিন

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ২নং রত্নাপালং ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি সড়কের চারটি বড় আকারের শিশু গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, ২নং রত্নাপালং ইউনিয়নের ইসু আলী সড়কের পূর্ব–পশ্চিম অংশে রাস্তার দক্ষিণ পাশে আনোয়ার হোসেন (প্রকাশ আনারাম্মত) এর বাড়ির বাউন্ডারির সামনে থাকা চারটি বড় বড় শিশু গাছ গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ইং তারিখ আনুমানিক ১:১৯ মিনিটের দিকে প্রকাশ্যে কেটে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইসলামি আন্দোলনের উখিয়া উপজেলা সভাপতি ও মসজিদ ব্যবসায়ী হাফেজ কলিম উল্লাহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে গাছগুলো কাটেন এবং এ বিষয়ে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে এলাকা ও সোস্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার ছড়ানো হয় হয়।

সড়কের গাছ কাটার অনুমতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম ও রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদার কাছ থেকে জানতে চাইলে, তিনজনই স্পষ্টভাবে জানান, উক্ত গাছ কাটার জন্য কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে রত্নাপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন মানববন্ধনে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে আব্বাস উদ্দিনের বক্তব্যে মিথ্যা বানুয়াট ভিত্তিহীন দাবি সাংঘর্ষিক হওয়ায় এলাকায় বিভ্রান্তি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর ৩১ জানুয়ারি ২৬ ইং তারিখে সাংবাদিক রাশেদের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বনবিভাগের তৎপরতা দেখে কলিম উল্লার দূর্নীতি ও অপরাধ দামাচাপা দিতে মানববন্ধন আয়োজন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মানববন্ধনে এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের অংশগ্রহণ করানো হয় এবং তাদের দিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মানহানিকর স্লোগান করানো হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা শিশু ছিল।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা মহলের ভাষ্য, কোনো বিতর্কিত ইস্যুতে শিশুদের ব্যবহার নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলিম উল্লাহ এতিমখানার নাম ব্যবহার করে ওসমান বিন আফ্ফান (র.) মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা শিশুদের কাটাতারের বাইরে এনে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা সরকারি নিষেধাজ্ঞার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মানহানির অভিযোগ এনে সাংবাদিক রাশেদ মসজিদ ব্যবসায়ী কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এইসব ষড়যন্ত্রে কয়েকজন কথিত দালালদের দৌরাত্ম ছিল চোখে পড়ার মতো।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমতি ছাড়া সরকারি সড়কের গাছ কাটা হলে তা বন আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হলে মামলা দায়ের ও জব্দকৃত কাঠের হেফাজত নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অথচ গাছ জব্দ করার কথা বললেও কোনো রকম ব্রিফিং দেওয়া হয়নি উল্টো নাটকীয় ভাবে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এখন নিরবতা পালন করছেন।

তবে এখনো পর্যন্ত মামলা দায়ের বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন? অনুমতি ছাড়া সরকারি সম্পদ কাটার অভিযোগে মামলা হয়নি কেন? জব্দকৃত কাঠ কোথায় রয়েছে? তদন্তের অগ্রগতি কী? প্রশাসনিক বিলম্বের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ আছে কি?

একজন গণমাধ্যমকর্মীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর প্রতিক্রিয়ায় মানববন্ধন ও পাল্টা প্রচারণা স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, গাছ কাটার বৈধতা যাচাই, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, শিশু ব্যবহারের অভিযোগের পৃথক তদন্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।