ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইট ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ছোট ভাই আজাদ
- আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪১৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর মহানগর বার্তা প্রতিবেদকঃ
ফরিদপুর সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর বর্বর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তার বোন আহত হওয়ার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান জুবাইদা (১৯) কোতয়ালী থানায় দায়ের করা এজাহারে জানান, অভিযুক্তরা ভুমিদস্যু ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির এবং ১ নম্বর অভিযুক্তের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কমলাপুর এলাকায় ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ির মাঝখানে একটি শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে নির্মিত বাউন্ডারি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে ছোট আজাদ ও তার স্ত্রী ভুক্তভোগীর পিতা মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েলের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম আজাদ ও তার স্ত্রী ময়না বেগম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। গালিগালাজে বাধা দিলে ১ নম্বর অভিযুক্ত হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েলের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ইট ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলা ঠেকাতে গেলে ভুক্তভোগীর ফুফু নাসরিন আক্তার (৪২) গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ নম্বর অভিযুক্ত লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং ১ নম্বর অভিযুক্ত ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় অভিযুক্তরা তার কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং গলায় থাকা আনুমানিক ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েলকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত নাসরিন আক্তারকে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার এসআই মাসুদ জানান অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।























