ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে জাহানারা বেগম ও শিশু সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার মূল আসামি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জাহানারা বেগম ও তার শিশু কন্যা সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতয়ালী থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ১৫/০৫/২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে দায়েরকৃত মামলার বাদী মো. লালন মোল্লা (৬৫), শিবালয়, মানিকগঞ্জ। নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার কর্ণসোনা এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী।
প্রথমদিকে মামলার আসামি অজ্ঞাত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর দিকনির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে উজ্জ্বল খান (৩৮), পিতা মৃত শাজাহান খান, সাং বকারটিলা খাসেরকুল, ইউপি মঙ্গলপুর, থানা রাজবাড়ীকে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে কোতয়ালী থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ীর বকার
টিলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৪ মে ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে উজ্জ্বল খান মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জাহানারা বেগমকে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদিয়া কালীতলা এলাকায় শামসুল মোল্লার পুকুরপাড়ের একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে পূর্বের সম্পর্ক ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারার বুকে আঘাত করে এবং পরে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় শিশু সামিয়া চিৎকার শুরু করলে তাকেও গলা টিপে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ গোপনে পুঁতে রাখে। পরে উপরে কলাগাছের ডালপালা দিয়ে স্থানটি ঢেকে দেয়।
পরে ১৪ মে বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থল থেকে মা ও শিশুর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এমন নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত উজ্জ্বল খানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে জাহানারা বেগম ও শিশু সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার মূল আসামি

আপডেট সময় : ০২:২৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জাহানারা বেগম ও তার শিশু কন্যা সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতয়ালী থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ১৫/০৫/২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে দায়েরকৃত মামলার বাদী মো. লালন মোল্লা (৬৫), শিবালয়, মানিকগঞ্জ। নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার কর্ণসোনা এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী।
প্রথমদিকে মামলার আসামি অজ্ঞাত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর দিকনির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে উজ্জ্বল খান (৩৮), পিতা মৃত শাজাহান খান, সাং বকারটিলা খাসেরকুল, ইউপি মঙ্গলপুর, থানা রাজবাড়ীকে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে কোতয়ালী থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ীর বকার
টিলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৪ মে ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে উজ্জ্বল খান মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জাহানারা বেগমকে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদিয়া কালীতলা এলাকায় শামসুল মোল্লার পুকুরপাড়ের একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে পূর্বের সম্পর্ক ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারার বুকে আঘাত করে এবং পরে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় শিশু সামিয়া চিৎকার শুরু করলে তাকেও গলা টিপে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ গোপনে পুঁতে রাখে। পরে উপরে কলাগাছের ডালপালা দিয়ে স্থানটি ঢেকে দেয়।
পরে ১৪ মে বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থল থেকে মা ও শিশুর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এমন নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত উজ্জ্বল খানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।