উচ্ছেদ অভিযানে সওজের ৩১ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার, বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৭:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩১ শতাংশ সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, উদ্ধারকৃত জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি টাকা।
রোববার (২১ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের সহযোগিতায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী মৌজার এসএ ২০২৪ ও ২০২৫ দাগভুক্ত সওজের অধিগ্রহণকৃত ও রেকর্ডভুক্ত জমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা মার্কেট ও দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। অভিযুক্ত হামজা (পিতা: মৃত আব্দুস সালাম), শলাকুন্ড গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, সওজ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা এবং নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযানের শুরুতে সওজ বিভাগের সার্ভেয়াররা জমির সীমানা নির্ধারণ করেন। এরপর অবৈধভাবে নির্মিত সেমিপাকা স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলে সম্পূর্ণ জমি দখলমুক্ত করা হয়।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম উপস্থিত থেকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন এবং জমির সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে আরও জানা যায়, উচ্ছেদের সময় উদ্ধার হওয়া ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ৩১ শতাংশ সরকারি জমির অবস্থান ও বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এর মূল্য প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা হতে পারে। সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমি দখল করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিসহ সব ধরনের সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


















