দুদকের ইনভেন্টরি শুরু: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাটে মিলল শত শত কোট-টাই ও মূল্যবান সামগ্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দুটি ক্রোককৃত ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক পর্যায়ের তালিকায় বিপুল পরিমাণ মূল্যবান পোশাক, আসবাবপত্র, অলঙ্কার ও বিলাসবহুল সামগ্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত দুটি ফ্ল্যাটে রোববার সকাল ১০টা থেকে ইনভেন্টরির কাজ শুরু হয়।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটিতে তিন শতাধিক কোট, পাঁচ শতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্সে সংরক্ষিত চারটি রোলেক্স ঘড়ি, তিন সেট মুক্তা (পার্ল), চারটি ঝাড়বাতি, শতাধিক কামিজ, বেড, সোফাসহ নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সামগ্রী পাওয়া গেছে। তবে দুদক জানিয়েছে, ইনভেন্টরির কাজ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত তালিকায় আরও সামগ্রী যুক্ত হতে পারে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, ইনভেন্টরির কার্যক্রম পরবর্তী দিনও অব্যাহত থাকবে। সব কাজ শেষ হলে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুদকের পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট)-কে, যিনি রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিদেশে তার বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন “The Minister’s Millions”-এ দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যে তার নামে বা সংশ্লিষ্টভাবে প্রায় ৩৬০টি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। প্রতিবেদনের এসব তথ্য সে সময় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।



















