ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের ৬ ফিলিং স্টেশনে বিএসটিআইর বিশেষ নজরদারি অভিযান, জ্বালানির পরিমাপ সঠিক রাজবাড়ীতে র‍্যাবের অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রধারী ৫ জন গ্রেপ্তার ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত নগরকান্দার রামনগর ইউনিয়ন এ বিনামূল্যে ছানি রোগী বাছাই ও ফ্রি অপারেশন কার্যক্রম, চিকিৎসা পেলেন শত শত রোগী নগরকান্দায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত মাদক বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  পত্নীতলা সার্কেল অফিস বার্ষিক পরিদর্শন করলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার অন্ধত্ব রুখতে পারেনি জীবনের চাকা: সদরপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুয়েলের অদম্য সংগ্রাম কালিয়াকৈরে হানিট্যাপ চক্রের ৪ সদস্য আটক মান্দায় মাটির নিচে লুকানো ৮০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ ফরিদপুরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে অটোরিকশার অব্যবস্থাপনায় তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার বাড়ীতে হামলার ঘটনায় “একজন নিহত” অর্ধশতাধিক আহত,সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি- ২ য় পর্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ ওয়াজেদ আলী, জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ীঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের হামলায় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের হামলায় ২২ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথিমধ্যে একজন মরা যান। বাকি তিন জন নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে যান।

নিহত ব্যক্তির নাম রাসেল মোল্লা (২৮)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের জতুমিস্ত্রিপাড়া গ্রামের আমজাদ মোল্লার ছেলে। তবে তিনি কোন পক্ষের এটা জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ গড়ে তোলেন নুরুল হক। গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান নুরুল হক। ওই দিন রাতে মাটি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দায় কফিনের মধ্যে তার লাশ দাফন করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবর সমতল করাসহ কয়েকটি দাবী জানায় স্থানীয় আলেম সমাজ।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নুরুল হকের আস্তানায় অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। তারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর সমতলসহ বিভিন্ন দাবি জানায়। অন্যথায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনসার ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। কর্মসূচিতে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির হয়। পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আনসার ক্লাবে শেষ করে তারা। তার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মিছিল নিয়ে প্রথমে নুরুল হকের আস্তানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন দরবারের লোকজন ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অপর পাশ থেকেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকশ লোক দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দরবারে হামলা চালান। এ সময় ভক্তদের কয়েকজনকে পেটানো হয় এবং নুরুল হকের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে নুরুল হকের লাশ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডের পদ্মার মোড় এলাকায় মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার মাজার ভাঙ্গার বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে  অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘৃণা ও সহিংসতাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করুন, সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার বাড়ীতে হামলার ঘটনায় “একজন নিহত” অর্ধশতাধিক আহত,সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি- ২ য় পর্ব

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

মোঃ ওয়াজেদ আলী, জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ীঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের হামলায় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের হামলায় ২২ জন আহত হন। এর মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথিমধ্যে একজন মরা যান। বাকি তিন জন নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে যান।

নিহত ব্যক্তির নাম রাসেল মোল্লা (২৮)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের জতুমিস্ত্রিপাড়া গ্রামের আমজাদ মোল্লার ছেলে। তবে তিনি কোন পক্ষের এটা জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ গড়ে তোলেন নুরুল হক। গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান নুরুল হক। ওই দিন রাতে মাটি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দায় কফিনের মধ্যে তার লাশ দাফন করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবর সমতল করাসহ কয়েকটি দাবী জানায় স্থানীয় আলেম সমাজ।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নুরুল হকের আস্তানায় অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। তারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর সমতলসহ বিভিন্ন দাবি জানায়। অন্যথায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনসার ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। কর্মসূচিতে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির হয়। পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আনসার ক্লাবে শেষ করে তারা। তার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ নুরাল পাগলার বাড়িতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মিছিল নিয়ে প্রথমে নুরুল হকের আস্তানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন দরবারের লোকজন ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অপর পাশ থেকেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকশ লোক দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দরবারে হামলা চালান। এ সময় ভক্তদের কয়েকজনকে পেটানো হয় এবং নুরুল হকের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে নুরুল হকের লাশ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডের পদ্মার মোড় এলাকায় মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার মাজার ভাঙ্গার বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে  অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঘৃণা ও সহিংসতাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করুন, সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।