ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাজী আব্দুল হকের ইন্তেকাল ফরিদপুরে অম্বিকাপুর ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন  শিবচরে মেধার জয়জয়কার: ইকরা একাডেমীক কোচিং সেন্টারের ৪ শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্য জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা ফরিদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে অস্তিত্ব সংকটে  ফরিদপুর জেলার কানাইপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ ফরিদপুরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ঝুঁকিতে রাস্তা ও কৃষিজমি কিবরিয়া স্বপনের সহধর্মিনীর মৃত্যুতে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের গভীর শোক কিবরিয়া স্বপনের সহধর্মিনীর মৃত্যুতে এমপি নায়াব ইউসুফের গভীর শোক

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ইয়াবাসহ আটক হওয়া মো. সামাদ খানকে (৪১) ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রেখে বিভিন্ন সময় মাদক কারবার পরিচালনা করতেন তিনি। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
র‍্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গত শনিবার (৬ জুন) রাতে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিচালিত ওই অভিযানে ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে র‍্যাব জানতে পারে, সামাদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চলে সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
র‍্যাবের তথ্যানুসারে, মধুখালী থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে মোট ছয়টি মামলার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে এবারের গ্রেপ্তারকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সামাদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিচিত করতেন এবং সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতেন। তাদের দাবি, প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে তিনি নিজের অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করার সুযোগ নিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার জানান, অভিযানের সময় সামাদের কাছ থেকে একটি সাংবাদিক পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার আচরণ, বক্তব্য এবং সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে র‍্যাবের কাছে তিনি পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে প্রতীয়মান হননি।
তপন কর্মকার আরও বলেন, “আটক ব্যক্তি পূর্ব থেকেই একাধিক মামলার আসামি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা বিভিন্ন তথ্য পেয়েছি। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
এদিকে সামাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তা শুধু আইন ভঙ্গের বিষয় নয়, বরং গণমাধ্যমের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। তারা এ ধরনের ঘটনায় গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত সামাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ইয়াবাসহ আটক হওয়া মো. সামাদ খানকে (৪১) ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রেখে বিভিন্ন সময় মাদক কারবার পরিচালনা করতেন তিনি। সর্বশেষ র‍্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
র‍্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গত শনিবার (৬ জুন) রাতে মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিচালিত ওই অভিযানে ১৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. সামাদ খানকে আটক করা হয়। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে র‍্যাব জানতে পারে, সামাদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের অঞ্চলে সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
র‍্যাবের তথ্যানুসারে, মধুখালী থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে মোট ছয়টি মামলার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে এবারের গ্রেপ্তারকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সামাদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিচিত করতেন এবং সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতেন। তাদের দাবি, প্রকৃত সাংবাদিকতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে তিনি নিজের অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করার সুযোগ নিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার জানান, অভিযানের সময় সামাদের কাছ থেকে একটি সাংবাদিক পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে একটি পত্রিকার ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার আচরণ, বক্তব্য এবং সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে র‍্যাবের কাছে তিনি পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে প্রতীয়মান হননি।
তপন কর্মকার আরও বলেন, “আটক ব্যক্তি পূর্ব থেকেই একাধিক মামলার আসামি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা বিভিন্ন তথ্য পেয়েছি। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
এদিকে সামাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তা শুধু আইন ভঙ্গের বিষয় নয়, বরং গণমাধ্যমের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। তারা এ ধরনের ঘটনায় গভীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত সামাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।