ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পত্নীতলা সার্কেল অফিস বার্ষিক পরিদর্শন করলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার অন্ধত্ব রুখতে পারেনি জীবনের চাকা: সদরপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুয়েলের অদম্য সংগ্রাম কালিয়াকৈরে হানিট্যাপ চক্রের ৪ সদস্য আটক মান্দায় মাটির নিচে লুকানো ৮০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ ফরিদপুরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে অটোরিকশার অব্যবস্থাপনায় তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ ফরিদপুরে একই সম্পত্তি নিয়ে বারবার মামলা, হয়রানির অভিযোগ: প্রতিকার চান জরিনা গং সৌদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশির ঘটনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদের শোক ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহাসড়কে বিক্ষোভ, মানববন্ধন  ডাকুয়া খাল থেকে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, রাস্তা ঝুঁকিতে।  ডাকুয়া খাল থেকে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন, রাস্তা ঝুঁকিতে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চাঁদা না পেয়ে দোকান ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ: সংবাদকর্মীদের হুমকি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর বাজারের নতুন পেঁয়াজ হাটে চাঁদা না দেওয়ায় একটি দোকানের টিনের বেড়া জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা ও প্রতিবাদ করায় সংবাদকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সিংবাদের দোকানের পূর্ব পাশের বেড়া খন্দকার জনি, তার ভাই খন্দকার তুরজাউন এবং তাদের চাচা খন্দকার নূর আমিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে খুলে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী আফরোজা বেগম জানান, “তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা জোরপূর্বক দোকানের বেড়া খুলে ফেলে। বাধা দিতে গেলে তারা দাবি করে, আপনার স্বামী আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। এই কথা শোনার পরপরই দ্রুত বোয়ালমারী থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই তারা পুনরায় একই কর্মকাণ্ড শুরু করে।”

ঘর মালিক আফরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী কোনো জমি বিক্রি করেননি। তারা একটি ভুয়া ফটোকপি দলিল দেখিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আমি তাদের কাছে মূল দলিল দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। আমার স্বামী মারা যাওয়ার তিন বছর পর তারা এখন দাবি করছে যে, জমি তাদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খন্দকার নূর আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে থাকা দলিলটি হারিয়ে গেছে এবং ফটোকপিই তাদের কাছে মূল প্রমাণ। উল্টো তিনি স্বীকার করেন যে, ঘরটি ভাঙার খরচ হিসেবে তারা মালিকের কাছে টাকা দাবি করেছেন।

ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে খন্দকার জনি ও তুরজাউন উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে কোনো সংবাদকর্মী এলাকায় টিকে থাকতে পারবে না। আমরা বিএনপি করি এবং আমাদের চাচা সাবেক সংসদ সদস্য। আমাদের বিচার করার ক্ষমতা কারও নেই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনি ও তুরজাউন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের বাবা খন্দকার হেমায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হেদায়েত হোসেনের প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানদের সাথে জনি ও তুরজাউনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এমনকি সৎ ভাইদের পৈতৃক ভিটায় আসতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সৎ ভাই খন্দকার দাউদ হোসেন আদালতের মাধ্যমে নিজের বৈধ পরিচয় ও অধিকার ফিরে পেলেও জনি ও তুরজাউনের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, প্রভাব খাটিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সংবাদকর্মীদের হুমকি প্রদানের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত খন্দকার হেমায়েত হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয়রা জানান, জনি ও তুরজাউনের ভয়ে হেমায়েত হোসেন নিজেও তার অন্যান্য সন্তানদের সাথে যোগাযোগ রাখতে সাহস পান না।

 

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, গতকালকে আমি পুলিশ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণে এনেছিলাম,আজ একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চাঁদা না পেয়ে দোকান ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ: সংবাদকর্মীদের হুমকি

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

 

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর বাজারের নতুন পেঁয়াজ হাটে চাঁদা না দেওয়ায় একটি দোকানের টিনের বেড়া জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টা ও প্রতিবাদ করায় সংবাদকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতৈর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সিংবাদের দোকানের পূর্ব পাশের বেড়া খন্দকার জনি, তার ভাই খন্দকার তুরজাউন এবং তাদের চাচা খন্দকার নূর আমিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে খুলে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী আফরোজা বেগম জানান, “তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা জোরপূর্বক দোকানের বেড়া খুলে ফেলে। বাধা দিতে গেলে তারা দাবি করে, আপনার স্বামী আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। এই কথা শোনার পরপরই দ্রুত বোয়ালমারী থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই তারা পুনরায় একই কর্মকাণ্ড শুরু করে।”

ঘর মালিক আফরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী কোনো জমি বিক্রি করেননি। তারা একটি ভুয়া ফটোকপি দলিল দেখিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আমি তাদের কাছে মূল দলিল দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। আমার স্বামী মারা যাওয়ার তিন বছর পর তারা এখন দাবি করছে যে, জমি তাদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খন্দকার নূর আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে থাকা দলিলটি হারিয়ে গেছে এবং ফটোকপিই তাদের কাছে মূল প্রমাণ। উল্টো তিনি স্বীকার করেন যে, ঘরটি ভাঙার খরচ হিসেবে তারা মালিকের কাছে টাকা দাবি করেছেন।

ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে খন্দকার জনি ও তুরজাউন উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে কোনো সংবাদকর্মী এলাকায় টিকে থাকতে পারবে না। আমরা বিএনপি করি এবং আমাদের চাচা সাবেক সংসদ সদস্য। আমাদের বিচার করার ক্ষমতা কারও নেই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনি ও তুরজাউন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের বাবা খন্দকার হেমায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হেদায়েত হোসেনের প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানদের সাথে জনি ও তুরজাউনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এমনকি সৎ ভাইদের পৈতৃক ভিটায় আসতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সৎ ভাই খন্দকার দাউদ হোসেন আদালতের মাধ্যমে নিজের বৈধ পরিচয় ও অধিকার ফিরে পেলেও জনি ও তুরজাউনের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, প্রভাব খাটিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং সংবাদকর্মীদের হুমকি প্রদানের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত খন্দকার হেমায়েত হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয়রা জানান, জনি ও তুরজাউনের ভয়ে হেমায়েত হোসেন নিজেও তার অন্যান্য সন্তানদের সাথে যোগাযোগ রাখতে সাহস পান না।

 

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, গতকালকে আমি পুলিশ পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণে এনেছিলাম,আজ একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।