ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাজী আব্দুল হকের ইন্তেকাল ফরিদপুরে অম্বিকাপুর ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন  শিবচরে মেধার জয়জয়কার: ইকরা একাডেমীক কোচিং সেন্টারের ৪ শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্য জয়পুরহাট সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা ফরিদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে অস্তিত্ব সংকটে  ফরিদপুর জেলার কানাইপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ ফরিদপুরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ঝুঁকিতে রাস্তা ও কৃষিজমি কিবরিয়া স্বপনের সহধর্মিনীর মৃত্যুতে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের গভীর শোক কিবরিয়া স্বপনের সহধর্মিনীর মৃত্যুতে এমপি নায়াব ইউসুফের গভীর শোক

ফরিদপুরে কারাবন্দী সাংবাদিক জহির মোল্লার মুক্তির দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রেজাউল করিম- ফরিদপুর

 

ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক মো. জহির মোল্লা (৪২) গত প্রায় ছয় মাস ধরে ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একটি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনের আওতায় দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি জানানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জহির মোল্লাকে তাঁর কানাইপুরের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তবে পরিবারের ভাষ্য, অস্ত্রটি তাঁদের বাড়ির সামনে দাদার কবরসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হলেও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাঁকে ওই মামলার আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, জহির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্রের বিরাগভাজন হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে হয়রানির শিকার হন এবং পরবর্তীতে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার আগে জহির মোল্লা কানাইপুর বাজারে “কৃষাণি” ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পরে তিনি জেড অ্যান্ড রাইস কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক সফলতা এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি বিভিন্ন মহলের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জহির মোল্লা দৈনিক আজকের গোয়েন্দা সংবাদ এবং বঙ্গ টিভি-র সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। এছাড়া তিনি ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন।

জহির মোল্লার স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁর বিচার হোক। কিন্তু তিনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।”

তিনি আরও বলেন, স্বামীর কারাবাসের কারণে তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দুই সন্তানের লেখাপড়া, সংসারের ব্যয়ভার এবং স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর দাবি, কারাগারে জহির মোল্লা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিক বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে কারাবন্দী সাংবাদিক জহির মোল্লার মুক্তির দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

 

 

রেজাউল করিম- ফরিদপুর

 

ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক মো. জহির মোল্লা (৪২) গত প্রায় ছয় মাস ধরে ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একটি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনের আওতায় দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি জানানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জহির মোল্লাকে তাঁর কানাইপুরের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তবে পরিবারের ভাষ্য, অস্ত্রটি তাঁদের বাড়ির সামনে দাদার কবরসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হলেও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাঁকে ওই মামলার আসামি করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, জহির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্রের বিরাগভাজন হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে হয়রানির শিকার হন এবং পরবর্তীতে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার আগে জহির মোল্লা কানাইপুর বাজারে “কৃষাণি” ব্র্যান্ডের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পরে তিনি জেড অ্যান্ড রাইস কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক সফলতা এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি বিভিন্ন মহলের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জহির মোল্লা দৈনিক আজকের গোয়েন্দা সংবাদ এবং বঙ্গ টিভি-র সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। এছাড়া তিনি ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন।

জহির মোল্লার স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁর বিচার হোক। কিন্তু তিনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আমরা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।”

তিনি আরও বলেন, স্বামীর কারাবাসের কারণে তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দুই সন্তানের লেখাপড়া, সংসারের ব্যয়ভার এবং স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর দাবি, কারাগারে জহির মোল্লা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিক বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।